প্রতিদিনের মতো সকালে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য জ্বালানি তেল কিনতে বের হয়েছিলেন প্রবীণ ব্যবসায়ী আবু তাহের (৬৫)। কিন্তু সেই পথচলাই যে তার জীবনের শেষ যাত্রা হবে, তা কে জানত! ঘাতক প্রাইভেটকারের চাপায় পিষে গিয়ে মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল প্রায় পাঁচ দশকের সুপরিচিত এক ব্যবসায়ীর জীবনপ্রদীপ।
সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) সকালে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ওনুআ চত্বর সংলগ্ন স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবু তাহের উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের কাসারা এলাকার মিজি বাড়ির মৃত মকবুল আহমেদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল সাতটার দিকে বাসা থেকে বাইসাইকেলযোগে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন আবু তাহের। ওনুআ চত্বরে পৌঁছালে লক্ষ্মীপুরগামী একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার তাকে সজোরে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে বাইসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের জামাতা আলাউদ্দিন অশ্রুসজল চোখে জানান, আমার শ্বশুর আবু তাহের গত প্রায় ৫০
বছর ধরে উপজেলার কড়ৈতলী বাজারে সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এলাকার কৃষিকাজে নিয়োজিত সেচ পাম্পের চালক ও ম্যানেজাররা তার কাছ থেকেই নিয়মিত ডিজেল ও জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতেন। সোমবার সকালেও দোকানের জন্য তেল কিনতেই তিনি ফরিদগঞ্জের তেল পাম্পে যাচ্ছিলেন। দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনে এলাকায় তিনি অত্যন্ত সৎ ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
কড়ৈতলী বাজার কমিটির সদস্য সাংবাদিক আমান উল্লাহ শোক প্রকাশ করে বলেন, আবু তাহের এলাকায় মাস্টার নামেও বেশ পরিচিত ছিলেন। এলাকার বহু মানুষের কাছে, বিশেষ করে সেচকাজে জড়িত কৃষকদের কাছে তার কয়েক লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। একজন সৎ মানুষের এই আকস্মিক বিদায়ে আমরা শোকাহত। আশা করছি, তার দেনাদাররা সততার সাথে সেই বকেয়া পাওনা পরিবারকে বুঝিয়ে দেবেন।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্ল্যাহ জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘাতক গাড়ি ও চালককে সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
১০ আগস্ট ২০২৬
