| ২০ March ২০২৬ Friday ৭:১৮:২৮ PM | |

বাবুগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধিঃ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের আইচার হাওলা গ্রামের এক সময়ের মেধাবী শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম মামুন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে শিকলবন্দী জীবন জীবনযাপন করছে ।
প্রেমে ব্যর্থতার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা এই যুবকের পাশে দাঁড়িয়েছেন তার স্কুলজীবনের বন্ধুরা(সহপাঠীরা)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০ বছর আগে মামুন বরিশালের বাবুগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র ছিলেন। একই বিদ্যালয়ের এক সহপাঠীর (ছদ্মনাম মৌরি) সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি মেয়ের পরিবার জানতে পারলে মামুনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং তাদের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এরপর থেকেই মামুন ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
একপর্যায়ে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বাধ্য হয়ে পরিবার তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। গত ১২ বছর ধরে পায়ে শিকল পরিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় বাড়িতেই রাখা হচ্ছে তাকে।
মামুনের মা সোনাবান বেগম জানান, ছেলেকে সুস্থ করতে তারা সম্ভাব্য সব জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছেন। তার দিনমজুর স্বামী জমিজমা বিক্রি করে চিকিৎসার খরচ চালিয়েছেন। এক পর্যায়ে এক দালালের মাধ্যমে পাবনায় পাঠানো হলেও সেখানেও প্রতারণার শিকার হন তারা। এখন তাদের ভাঙা ঘর ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে ভালো করার জন্য যা পারছি করছি। এখন আর কিছুই করার সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারের কাছে সাহায্য চাই।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে ঈদকে সামনে রেখে মামুনের খোঁজ নিতে তার বাড়িতে যান এসএসসি ২০০২ ব্যাচের সহপাঠীরা। তারা মামুনের চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। সহপাঠী মো. আল-আমিন চিশতি বলেন, মামুন খুব মেধাবী ও ভদ্র ছেলে ছিল। তার জীবনে এমন পরিস্থিতি আসবে ভাবিনি। বন্ধুর এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। আমরা চাই সে আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক।
বন্ধুরা জানান, তারা সম্মিলিতভাবে অর্থ সংগ্রহ করে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সমাজের সহৃদয় ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহপাঠী নাইম খান, শরফুদ্দীন সবুজ, হাওলাদার সবুজ, তারেক, আবুল বশার, রাসেল খান, সোহেল ঘরামি, রাশিদুল হক রনি, কাওসার হাওলাদার, মিতুসহ আরও অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এটিকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

