প্রাচীন এক মহুয়াবাগান

প্রাচীন এক মহুয়াবাগান

পাশের মোহাম্মদপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৫২) বললেন, ‘আগে গাছের বয়স কম ছিল, গাছও বেশি ছিল। এত ফুল ফুটত, গাছতলা থেকে ঝাড় দিয়ে ফুল নিয়ে যেতাম। ফুল দিয়ে পায়েস রান্না করতাম। সারা বাড়িতে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ত। ফুল যত শুকাবে, কিশমিশের মতো মিষ্টি ঘ্রাণ হবে। শুকাতে শুকাতে গমের মতো চিকন হয়ে যাবে।’ এই কথা বলতে বলতে তিনি একটি ফল চায়ের দোকান থেকে ধুয়ে এনে এই প্রতিবেদকের মুখে গুঁজে দিলেন। শুধু মিষ্টি নয়, সুগন্ধেও মন ভরে গেল।

আলোচনায় যোগ দিলেন চন্দনকোঠা গ্রামের আবদুল আজিজ (৫৫)। তিনি বললেন, ‘আমার দাদা বাহার উদ্দিনও বলতে পারেনি যে এই গাছ কবে লাগানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো বলতে পারবে পরেম। এখানেই তার বাড়ি। বয়সেও সবার চেয়ে বড়।’

খুঁজে পাওয়া গেল পরেমকে। পুরো নাম জানতে চাইলে তিনিও বললেন, পরেম। মানুষ পরেম বলেই ডাকে। অনেক জেরার পরে তাঁর পুরো নাম পাওয়া গেল। পরমেশ্বর হেমব্রম।

পরমেশ্বরের কাছ থেকেই জানা গেল কোথায় কয়টি গাছ ছিল। কত বড় বাগান ছিল। মরতে মরতে আর ১১টি আছে। তাঁর ভাষায় একটা জংলা বাগান। তিনি বললেন, ‘মানুষ মোয়া ফুলের ক্ষীর-পায়েস রান্না করে খায়। যখন ফল হয় তখন বাদুড়ে খায়।’

পরমেশ্বর বললেন, মোয়াগাছের নিচেই জীবনটা কেটে গেল। নিজের ভাষায় মহুয়া ফুলের কথা শুনতে চাইলে বললেন, ‘মাতকম বাহা হেরেমগিয়া।’ বাংলা অর্থ ‘মহুয়া ফুল খুব মিষ্টি।’

Explore More Districts