শামীম আলম
জামালপুর জেলাধীন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত ৮নং দেওয়ানগঞ্জ সদর ইউপি উৎমারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের উৎমারচর উচ্চ বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষকের জালিয়াতি ও নিয়োগ বানিজ্যসহ ডিজির প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে প্রধান শিক্ষক হানিফ নিয়োগ নিয়েছে। উৎমারচর উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল সনদে সয়লাভ। (২৫জানুয়ারী ২০২৬)তারিখে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হানিফ উদ্দিনের সাথে অফিস চলাকালীন সময়ে তার অফিসে সাক্ষাতে কথা হয়। আপনার বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ঠিক আছে কি? তিনি বলেন সব ঠিক আছে। তবে কোন প্রমাণ দেখাতে পারেন নাই। অথচ ২০২৩ সালে মোট পরিক্ষা দিয়েছে ১২জন পাশ করেছে ৭জন ফেল ৫জন। ২০২৪ সালে মোট পরিক্ষা দিয়েছে ১৫জন পাশ করেছে ৪জন ফেল ১১জন। ২০২৫ সালে মোট পরিক্ষা দিয়েছে ১৮জন পাশ করেছে ৮জন ফেল করেছে ১০জন। অথচ সর্বনিম্ন পরিক্ষার্থী ৩৫ দেখানো নিয়ম তা না হলে প্রতিষ্ঠানের বিল বন্ধ থাকবে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক স্বীকৃতিতেও করেছেন অনিয়ম অন্যাথায় এমপিও বন্ধ। বিদ্যালয়ে কর্মরত একজন আয়া নাম মোছা:ছাহেরা আক্তার ইনডেক্স নং ঘ৫৬৮৫৭৫৬৬যোগাযোগ করেছেন ০২/০২/২৩তারিখে বিনিময়ে নিয়েছেন ৮০০০০০(আট লক্ষ টাকা) অথচ ২৩/০১/২৩তারিখ দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক হানিফ উদ্দিন উৎমারচর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রশংসা পত্র প্রধান করেন মোছা: দিপা আক্তার পিতা মো: দেলোয়ার হোসেন মাতা মোছা: মনিরা বেগম, গ্রাম: উৎমারচর পো: খড়মা, উপজেলা: দেওয়ানগঞ্জ, জেলা: জামালপুর। যাহার রোল নাম্বার: ৪৪০৪৫৫এবং রেজিস্ট্রেশন নাম্বার:১৯২০০০৫৯৯৫,সেশন:২০২০-২১, ফলাফল ৪.৪৪এবং জন্ম তারিখ:১১-০৩-২০০৬.তিনি দিপা নামে ইন্টার পাশ এবং বর্তমানে ডিগ্রীতে অধ্যয়নরত আছেন। এই টাকা লোভী দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক মো: হানিফ উদ্দিন মোছা:দিপার কাছ থেকে ৮০০০০০(আট লক্ষ) টাকার বিনিময়ে দিপাকে ছাহেরা বানিয়ে আয়া পোষ্টে নিয়োগ দিয়েছেন। হানিফ উদ্দিনকে প্রশ্ন করা হলে, আপনি কীভাবে দিপাকে ছাহেরা বানিয়েছেন। এবং নিয়োগ দিয়েছেন? তিনি বলেন ছাহেরার আইডি কার্ড দেখে আমি নিয়োগ দিয়েছি। আবার বলেন আমি নিয়োগ দেয়নি, নিয়োগ দিয়েছে কমিটি। অথচ একটা নিয়োগে মূল দায়িত্ব হল প্রতিষ্ঠানের প্রধান। তিনি আরো বলেন ছাহেরার নাম ছাহেরাই। সাংবাদিক বলেন আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে দিপা এসএসসি পাশ করেছে। এবং আপনি তাকে দিপা নামে প্রশংসা পত্র দিয়েছেন। তখন তিনি কোন কথা বলেন নাই। এ বিষয়ে দিপার সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন আমার আসল নাম ছাহেরা। আমি ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। অথচ দিপা ৩১-১০-২৫ইং তারিখে বিবাহ করেন। সেখানে তার কাবিন নামায় মোছা:দিপা আক্তার যাহার বহি নং:-এ/২,রেজি নং:১০২/২৫ এবং পৃষ্ঠা নং: ৫৬.এবং ছাহেরার সমুদয় বেতন ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত নেওয়াসহ প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়েছেন অনিয়ম করে। তার নিয়োগের সময় বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত না বানিয়ে কৃষি শিক্ষার পাঠদানকারীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বানিয়ে তিনি নিয়োগ নিয়েছেন। কৃষি পাঠদানকারী কখনোই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হতে পারে না। তার নিয়োগের পত্রিকা তার বিপরীতে ০৩জন প্রতিদ্বন্ধীর নাম এবং একজন ডিজির প্রতিনিধির নাম ও ফোন নাম্বার তিনি দিতে পারে নাই। বর্তমানে বিদ্যালয়ে কর্মরত ০৭জন শিক্ষকের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান হানিফ কে জিগ্যাস করা হলে তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে এই ০৭জন ছাড়া আরো ০২জন আছে অর্থাৎ মোট ০৯জন শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকগণ:০১ মো: হানিফ উদ্দিন, নিয়োগ জালিয়াতি, সেলারী সিটে যোগদান দেখান:১৫-০৬-২০০২কিন্তু বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো ব্যানবেইস এ তার এমপিও ভূক্তর তারিখ:০৫-০১-২০০৪(প্রধান শিক্ষক) উ১০০৬৫৫০. ০৬. মোছা: ছাহেরা খাতুন (আয়া) ঘ৫৬৮৫৭৫৬৬ । উপরোক্ত শিক্ষকের একাডেমিক সকল সনদ,নিবন্ধন সনদ,বিএড সনদ.বিপিএড সনদ.কম্পিউটার সনদ.পত্রিকা,নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র এবং ঘওউকার্ডের ফটোকপি প্রয়োজন একথা উল্লেখ করে তথ্য অধিকার ফর্মে তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন। সাংবাদিকরা কিন্তু সুনিদিষ্ট সময় যাওয়ার পর তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হানিফ উদ্দিন। বাকি শিক্ষকের তথ্য খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। উৎমারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হানিফ উদ্দিন শিক্ষক সনদ জালিয়াতির বিষয়ে তথ্যর কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি দেয় দিচ্চি বলে সময় বাড়ান।
দেওয়ানগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, আমি এতো বড় শিক্ষক সনদ জালিয়াতির বিষয়ে জানা ছিলনা তবে অভিযোগ পেলে আমি ব্যবস্থা নিবো।


