বুধবার ইশরাক ইস্যুতে যখন বিএনপির নেতা–কর্মীরা কাকরাইল মোড়ে আন্দোলন করছিলেন, তখন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও সবার আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়ার দাবিতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। তারা নির্বাচন কমিশনকে বিএনপির আজ্ঞাবহ হিসেবেও অভিহিত করে। এই কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচন করেনি, এমনকি সীমানা নির্ধারণের কাজও শেষ হয়নি। তার আগেই কাউকে আজ্ঞাবহ বলা কতটা সমীচীন সেই প্রশ্নও আছে। আর কোন নির্বাচন আগে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক সরকার, নির্বাচন কমিশন নয়। এনসিপি নেতারা সরকারের তিন উপদেষ্টাকে বিএনপির সমর্থক বলে তাঁদের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
ইশরাকের পক্ষে আদালতের রায় পাওয়ার পরও ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার মধ্য দিয়ে দলটি একই সঙ্গে সরকার ও এনসিপির সঙ্গে সমুখ সমরে অবর্তীণ হলো। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম যমুনায় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
রাতে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ করতে পারবেন না, এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি যদি কাজ করতে না পারি…যে জায়গা থেকে তোমরা আমাকে আনছিলে একটা গণ–অভ্যুত্থানের পর। দেশের পরিবর্তন, সংস্কার । কিন্তু যেই পরিস্থিতি যেভাবে আন্দোলন বা যেভাবে আমাকে জিম্মি করা হচ্ছে। আমি তো এভাবে কাজ করতে পারব না।’ (প্রথম আলো, ২৩ মে, ২০২৫)


