প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষি বিপ্লবের নতুন দিগন্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষি বিপ্লবের নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি ও অর্থনীতির মূলভিত্তি হলো কৃষি। এ চিরন্তন সত্যকে ধারণ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একদা ডাক দিয়েছিলেন ‘সবুজ বিপ্লবের’। আজ সেই বিপ্লবের উত্তরাধিকারী হয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠা বাংলাদেশের হাল ধরেছেন আধুনিক ও স্মার্ট বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

১৯ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বুকে নিয়ে তিনি যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে, তখন দেশের কৃষক ও ডিলার সমাজ এক বুক আশা নিয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে। ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সার বিতরণ ব্যবস্থার বর্তমান জটিলতা নিরসনে তাঁর সময়োপযোগী ও জাদুকরী সমাধানই এখন দেশবাসীর মূল প্রত্যাশা।

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া‘সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা-২০২৫’ বর্তমানে দেশের কৃষি খাতে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেছে। এ নীতিমালার কিছু ধারা বাস্তবসম্মত নয় বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের ডিলার এবং প্রান্তিক চাষীরা।

একটি ইউনিয়নে তিনটি বিক্রয় কেন্দ্র পরিচালনা করা ডিলারদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়তি ভাড়া, পরিবহন এবং লোকবল খরচের বোঝা ডিলারদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। এ দেশের ৮০ শতাংশ কৃষক মৌসুমে বাকিতে সার নিয়ে ফসল ঘরে তুলে টাকা শোধ করেন। কিন্তু নতুন নীতিমালার নগদ লেনদেনের কড়াকড়ি কৃষকের ঘরে হাহাকার ডেকে আনছে। এ কঠিন সন্ধিক্ষণে দেশের মানুষ বিশ্বাস করে, তারেক রহমান—যিনি বাংলার মাঠ-ঘাট-প্রান্তর চষে বেড়িয়েছেন, তিনি আমলাতান্ত্রিক এই জটিলতা বোঝেন এবং খুব শীঘ্রই একটি সুন্দর ও কার্যকরি সমাধান দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ‘নয়া বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের রূপরেখায় কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জানেন,এ দেশের মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি। তাঁর নেতৃত্বে কৃষি খাত হবে প্রযুক্তি নির্ভর এবং সিন্ডিকেট মুক্ত।

সার বিতরণে যে মাফিয়াতন্ত্র আগে গড়ে উঠেছিল,তারেক রহমানের ‘জিরো টলারেন্স’নীতিতে তা এখন লন্ডভন্ড। তিনি চান সার যেন কোনো নেতার পকেটে না গিয়ে সরাসরি কৃষকের লাঙ্গলের ছোঁয়ায় পৌঁছায়।

ডিলারদের যে যৌক্তিক দাবি অর্থাৎ ডিলার পয়েন্টের খরচ সমন্বয় এবং লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করা, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ইতোমধ্যে পর্যালোচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর এক একটি নির্দেশনায় আশার আলো দেখছে দেশের লাখ লাখ ডিলার ও কোটি কৃষক।

শহীদ জিয়াউর রহমান খাল কাটা কর্মসূচির মাধ্যমে পানি ও সারের যে নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ তৈরি করেছিলেন, তারেক রহমান সেই দর্শনকে ডিজিটালাইজড করছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, কৃষকের জন্য সারের কার্ড হবে এমন এক নিরাপত্তা কবচ, যেখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো স্থান থাকবে না। ডিলাররা আর লাঞ্ছিত হবেন না, বরং তারা হবেন কৃষি সেবার সম্মুখসারির যোদ্ধা।

বাংলাদেশের সার আমদানিকারক ও ডিলার অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, তারেক রহমানই একমাত্র নেতা যিনি মাঠের ভাষা বোঝেন। আমলাদের ফাইলবন্দী সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তিনি গণমানুষের মনের কথা শুনতে অভ্যস্ত। ডিলাররা বলছেন,‘আমরা বর্তমান জটিলতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আছেন। তিনি আমাদের অভিভাবক। তাঁর একটি সিদ্ধান্তই পারে কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে এবং ডিলারদের ব্যবসায়িক নিশ্চয়তা দিতে।‘

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ কেবল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে না,বরং কৃষি পণ্য রপ্তানিতেও বিশ্বে শীর্ষস্থানে পৌঁছাবে। তাঁর ‘ভিশন-২০৩০’ ও পরবর্তী সংস্কার কর্মসূচিতে কৃষিকে শিল্পায়নের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
ড্রোনের মাধ্যমে সার ছিটানো,মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী সারের সঠিক ব্যবহার এবং অনলাইন ডিলারশিপ ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে তিনি এক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলছেন। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং সারের ওপর যৌক্তিক ভর্তুকি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

জুলাই বিপ্লব পরবর্তী এ বাংলাদেশে তারেক রহমান বারবার ‘জাতীয় ঐক্য’র কথা বলেছেন। এ ঐক্য কেবল রাজনৈতিক নয়,বরং অর্থনৈতিকও। যখন কৃষক শক্তিশালী হবে,তখন দেশ শক্তিশালী হবে। সার ডিলারদের বর্তমান প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে তিনি যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন,তা দেশের সমৃদ্ধির সোপান হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচনে জনআকাঙ্ক্ষার যে প্রতিফলন ঘটেছে,তার মূল ভিত্তিই ছিল সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন।

অর্থনীতিবিদ ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তারেক রহমানের সরকার যদি সফলভাবে সার বিতরণের এ সাময়িক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে, তবে তা হবে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট জয়। আমদানিকারকদের সমস্যা সমাধান এবং কৃষকের হাতে সময়মতো সার পৌঁছানো নিশ্চিত করা হলে দেশ খুব দ্রুত একটি অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে রূপান্তরিত হবে।

তারেক রহমান কেবল একটি দলের নেতা নন,তিনি ১৬ কোটি মানুষের আস্থার শেষ আশ্রয়স্থল। সার ডিলারদের বর্তমান জটিলতা এবং কৃষকদের হাহাকার নিরসনে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ হবে ইতিবাচক। তিনি শহীদ জিয়ার রক্ত এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের উত্তরাধিকারী যাঁরা সব সময় কৃষকের সম্মান রক্ষা করেছেন।

তারেক রহমানের সহযোগিতায় শীঘ্রই সারের নীতিমালা সংশোধিত হবে এবং কৃষক-ডিলার উভয়েই তাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবে এটিই এখন ধ্রুব সত্য। তাঁর নেতৃত্বে দেশ হবে সমৃদ্ধ, শক্তিশালী এবং স্বনির্ভর। অন্ধকার কেটে গেছে, ভোরের সূর্য হাসছে তারেক রহমানের বলিষ্ঠ পদক্ষেপে।

বিশেষ প্রতিবেদন
রুহেল হাশেমী
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এ জি

Explore More Districts