নূরের সঙ্গে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জিম্মিকারী ইজাজের লড়াইটা আমাদের একাত্তরের রণাঙ্গনের মতো বাঙালির বীরত্বকে আবারও মনে করিয়ে দিল, যা নতুন প্রজন্মের দর্শকদের স্বদেশপ্রেমে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ‘আমি শাহজাহান ইসলাম নূর, আমি মুসলমান, আমি বাংলাদেশি’ সংলাপ আমাদের গভীরভাবে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করে।
‘দম’ সিনেমার মাধ্যমে রেদওয়ান রনিরা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে যুদ্ধকে নিরুৎসাহিত করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছেন। সিনেমা নির্মাণের প্রায় সব দিক দিয়ে ‘দম’ সিনেমাটি বেশ সাফল্য ও মুনশিয়ানা দেখালেও সিনেমার প্রথমার্ধটা কিছুটা ধীর গতি মনে হয়েছে। তবে সারভাইভাল মুভি হিসেবে কোথাও কোথাও গল্পের উত্তেজনা একটু কমে গেলেও নিশোর অনবদ্য অভিনয়ের দাপটে সিনেমার শ্লথ গতি সহসা আড়ালেই পড়ে গেছে।
এ সিনেমায় হাস্যরস বা আনন্দদায়ক দৃশ্যের অভাব থাকায় টানা সিরিয়াস ও করুণ দৃশ্যগুলো দর্শকদের জন্য মাঝেমধ্যে একঘেয়ে বা ক্লান্তিকর হয়েছে বলে মনে হতে পারে। তা ছাড়া এ সিনেমার কিছু দৃশ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ করা হয়েছে এবং মরুভূমিতে নূরের একাকী সংগ্রামের কিছু দৃশ্য পুনরাবৃত্তিমূলক মনে হয়েছে, যা মূল গল্পের গতিকে কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
এদিকে সিনেমার পটভূমি আফগানিস্তান হলেও গল্পটি কোন সময়কে প্রতিনিধিত্ব করেছে, সেটা দেখানো হয়নি। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোতে প্রায়শই গল্পের পটভূমির পাশাপাশি ঘটনার সময়কাল সম্পর্কে দর্শকদের ধারণা দেওয়া হয়।
এই সিনেমার সবচেয়ে দুর্বল দিক হলো, শেষের দৃশ্যে ছিল না কোনো প্রত্যাশিত নাটকীয়তা। পুরো সিনেমা নির্মাণে পরিচালক যে মাত্রার মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন, সে হিসেবে সিনেমার শেষ অংশটা আরও আকর্ষণীয় ও নাটকীয় করতে পারতেন।
সারভাইভাল সিনেমা হিসেবে এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র নিশোর অভিনয় সত্যিকার অর্থেই মাস্টারক্লাস হয়েছে। এ সিনেমায় তিনি চরিত্রটির মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ঢুকে গেছেন এবং চরিত্রের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করেছেন। তাঁর প্রতিটি চাহনি, প্রতিটি বিরতি, প্রতিটি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সূক্ষ্ম, উদ্দেশ্যমূলক ও শক্তিশালী মনে হয়েছে, যা ধীরে ধীরে তাঁর অভিনয়ের পরিপক্বতার প্রমাণ দিচ্ছে। নিশোর হৃদয়স্পর্শী অভিনয়ের পাশাপাশি পূজা চেরি সম্ভবত ক্যারিয়ারের সেরা অভিনয়টা এই সিনেমায় করেছেন।
‘দম’ কেবল একটি বিনোদনমূলক সিনেমা নয়, এটি আবেগঘন ও সাহসী যাত্রা। তথাকথিত বাণিজ্যিক ফর্মুলার বাইরে গিয়ে একটি জীবনমুখী ও জীবন বাঁচানোর গল্প যে দর্শকদের হলে টানতে পারে, ‘দম’ তার একটি জ্বলন্ত প্রমাণ।
