প্রকাশ্যে আসছেন না মুজতাবা, ইরানের নিয়ন্ত্রণ কি রেভল্যুশনারি গার্ডের হাতে? – DesheBideshe

প্রকাশ্যে আসছেন না মুজতাবা, ইরানের নিয়ন্ত্রণ কি রেভল্যুশনারি গার্ডের হাতে? – DesheBideshe

প্রকাশ্যে আসছেন না মুজতাবা, ইরানের নিয়ন্ত্রণ কি রেভল্যুশনারি গার্ডের হাতে? – DesheBideshe

তেহরান, ২৩ মার্চ – ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতি চার সপ্তাহে গড়িয়েছে। তবে এতদিন পার হলেও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির জনসম্মুখে না আসা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পারস্য নববর্ষ বা নওরুজ উদযাপনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ এবং ইসরায়েলের মোসাদসহ বিশ্বের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কড়া নজর ছিল মুজতাবার গতিবিধির ওপর।

প্রয়াত বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মতো ঐতিহ্য মেনে মুজতাবা নওরুজের ভাষণ দেন কি না, সেদিকে সবার দৃষ্টি ছিল। তবে মুজতাবার পক্ষ থেকে কেবল একটি লিখিত বিবৃতি আসার মধ্য দিয়ে দিনটি পার হয়। এর ফলে তার শারীরিক অবস্থা, ভূমিকা এবং বর্তমান অবস্থান নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই মুজতাবার এই অন্তরালে থাকা বিস্ময় তৈরি করেছে।

সিআইএ এবং মোসাদসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার প্রকৃত অবস্থা জানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউজ সাইট অ্যাক্সিওস এই খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, মুজতাবাই যে বাস্তবে নির্দেশ দিচ্ছেন এমন কোনো প্রমাণ তাদের কাছে নেই। মুজতাবাকে নিয়ে সাম্প্রতিক মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি বেঁচে আছেন ঠিকই কিন্তু ইরানে ক্ষমতার মূল নিয়ন্ত্রণ তার হাতে নেই।

দ্য জেরুসালেম পোস্ট পত্রিকাকে দুটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ইরান পরিচালনার ক্ষমতা রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির হাতে রয়েছে। একটি সূত্রের মতে, রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীই হয়তো মুজতাবাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল এবং মার্কিন হামলায় নিহত হওয়ার পর ৯ মার্চ তার ছেলে মুজতাবাকে সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

তার প্রথম বিবৃতি ১২ মার্চ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। এরপর ২০ মার্চ নওরুজের লিখিত বার্তাও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার হয়। ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, মুজতাবা আহত হলেও বেঁচে আছেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় এখনও জড়িত থাকতে পারেন। তবে বাবার তুলনায় তার কর্তৃত্ব সীমিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা বাহিনী আশা করেছিল নওরুজে মুজতাবা প্রকাশ্যে আসবেন, কিন্তু তা হয়নি।

ইরানের কর্মকর্তারা মুজতাবার সঙ্গে বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করলেও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তেহরানে বর্তমানে কে নির্দেশ দিচ্ছেন তা পুরোপুরি অস্পষ্ট।

আলি লারিজানি মারা যাওয়ার খবর আসার আগ পর্যন্ত তিনি কার্যত নেতা ছিলেন। তার মৃত্যুর পর যে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা মূলত রেভল্যুশনারি গার্ড পূরণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শীর্ষ ইরানি নেতারা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে ডিজিটাল যোগাযোগ এড়িয়ে শাসনকাজ চালাচ্ছেন। মুজতাবার টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত নওরুজের লিখিত বার্তায় ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে এবং একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা ছবিটি সাম্প্রতিক কি না তা যাচাই করছেন।

ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের গবেষক রাজ জিম্মাত জানান, মুজতাবা কাজ করছেন না এমন স্পষ্ট প্রমাণ নেই। আহত হওয়া এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে এক গোপন ব্রিফিংয়ে সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জেমস অ্যাডামস উল্লেখ করেন, ইরান মারাত্মক কমান্ড সংকটে ভুগলেও তাদের শাসন পতনের আসন্ন কোনো লক্ষণ নেই।

এনএন/ ২৩ মার্চ ২০২৬



Explore More Districts