| ২৭ April ২০২৬ Monday ১১:৩০:১৯ PM | |

আমি কাজী এমামুল হক আলিম, উপজেলা প্রকৌশলী, বাবুগঞ্জ দীর্ঘ ২ বছর সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছিলাম। সম্প্রতি কিছু কুচক্রী ও স্বার্থান্বেষী মহল বিশেষ সুবিধালাভ করতে না পারায় আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য সংবলিত সংবাদ প্রচার করছে।
সংবাদে প্রচারিত হয় যে, উপজেলা প্রকৌশলী তার টয়লেট মেরামত ও আসবাবপত্র ক্রয় না করে পিআইসি প্রায় ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যে সেবা গ্রহীতারা আসেন তাদের ব্যবহৃত পুরুষ ও মহিলা টয়লেট এবং ওযুখানা বেসিন ইত্যাদি পরিত্যক্ত ও ব্যবহার অনুপযোগী ছিল। ফলে দীর্ঘদিন এর ভোগান্তি হ্রাসে রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে তা সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়।
এছাড়া উপজেলা প্রকৌশলীর নিজস্ব টয়লেটটিও মেরামতের প্রয়োজন থাকায় তা একই স্কীম থেকে সংস্কার করা হয়। এই স্কীমের ২য় অংশ আসবাবপত্র ক্রয় যা উপজেলা প্রকৌশলীর রুমেই দৃশ্যমান এবং উল্লেখিত টাকার এস্টিমেট মোতাবেক পি আই সি কমিটির মাধ্যমে যথাযথভাবে নিয়ম মেনেই ক্রয় করা হয়েছে।
সংবাদে প্রচারিত হয় যে, বিডি ইঞ্জিনিয়ারিং নামে প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাইলস এর কাজ না করতে দিয়ে পুরাতন কাজ দেখিয়ে বিল তোলা হয়েছে কিন্তু বাস্তবে এই নামে এবং এই টাকার কোন প্রকল্প আলাদাভাবে উপজেলা পরিষদ গ্রহন করে নি।
উপজেলা পরিষদ সম্পূর্ন ই-জিপি পদ্ধতিতে LTM টেন্ডারের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সহিত ভবন মেরামত প্রকল্পের কাজ প্রদান করে ওয়াটার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে। উক্ত প্রতিষ্ঠান তাদের কৃতকাজ যথাযথভাবে শেষ করায় তাদের একাউন্টেই বিল প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে অর্থ অন্য একাউন্টে প্রদান করা হয় নি কিংবা পুরাতন কাজের নামে বিল তোলা হয় নি।
সংবাদ প্রচারিত হয় যে, কেদারপুর এইচ এম মসজিদের বরাদ্দকৃত অর্থ কাজ না করেই উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে উক্ত মসজিদে কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে টাইলস সহ অন্যান্য কাজ করা হয় এবং মসজিদ কমিটি উক্ত কাজের প্রত্যয়ন প্রদান করেন। তার প্রেক্ষিতে ঠিকাদারকে বিল প্রদান করা হয়।
সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয় যে, বিভিন্ন ইউনিয়নে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয় নি। প্রকল্পের টাকার পরিমান ভুল উল্লেখ করা হয়েছে। উন্নয়ন তহবিল হতে ৯০ লক্ষ টাকার কাজ ই-জিপি LTM টেন্ডার করা হয় এবং স্বচ্ছতার সহিত কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। প্রত্যেকটি কাজ এস্টিমেট মোতাবেক বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রত্যয়ন গ্রহন করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই যে পরিমান অর্থ একটি পূর্নাঙ্গ কাজ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন তা উপজেলা পরিষদ থেকে সংকুলান করা সম্ভব না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় জনগন অসম্পূর্ন কাজের অভিযোগ দিচ্ছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়া ইজিপি LTM প্রদ্ধতিতে সবার অংশগ্রহন নিশ্চিত করা যায় যেটা ওপেন টেন্ডারে সম্ভব নয়। এমনকি পিপি আর মোতাবেক LTM টেন্ডারে অই জেলার ঠিকাদাররা ই শুধু অংশ নিতে পারে।
এতে স্থানীয় ঠিকাদাররা কাজের সুযোগ পায়। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহল কাজ বাগিয়ে নিতে এবং বেশি সংখ্যক ঠিকাদারের এই সুযোগ কুক্ষিগত করতে ওপেন টেন্ডার করার জন্য পত্রিকায় সংবাদ প্রচার করছে।
সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এহেন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য আমার দীর্ঘদিনের সুনামকে ক্ষুন্ন করার জন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র।
প্রতিবাদকারী
কাজী এমামুল হক আলিম
উপজেলা প্রকৌশলী
বাবুগঞ্জ, বরিশাল।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |
