‘পুলিশের সোর্স’ পরিচয়ে এলাকায় দাপট দেখানো এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ওঠা মো. বাবুল ওরফে বাবুকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) বাকলিয়া থানা পুলিশ।
কেয়ারটেকার মো. জয়নালকে কুপিয়ে আহত করে নগদ টাকা লুটের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জাহেদুল কবির।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বাকলিয়া থানার কল্পলোক আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার বাবুল ওরফে বাবু বাকলিয়া থানার সাবান ফ্যাক্টরি, হাটখোলা এলাকার সিলেট কোম্পানির বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবার নাম আহমদ মিয়া।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে কল্পলোক আবাসিক এলাকার ১ নম্বর রোডের ই-ব্লকে শাহাদাত হোসেনের বাড়ির সামনে গিয়ে কেয়ারটেকার মো. জয়নালের কাছে বাসা ভাড়ার বিষয়ে জানতে চান বাবু। জয়নাল তাকে জানান, মালিক ব্যাচেলরদের কাছে বাসা ভাড়া দেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবু তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
এর পরদিন ১৩ মে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে জয়নাল ওই বাড়ির সামনে অবস্থানকালে বাবু আরও তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। এ সময় বাবুর হাতে ধামা এবং অপর তিনজনের হাতে ছোরা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, বাবু ধামা দিয়ে জয়নালকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে তার বাম হাতের কবজি ও কনুইয়ে গুরুতর কাটা জখম হয়।
অপর তিনজন ছোরা দিয়ে জয়নালের গলার বাম পাশ, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আসামিরা তাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন।
একপর্যায়ে জয়নাল মাটিতে পড়ে গেলে তার পকেট থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা জয়নালকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা আহত জয়নালকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে তিনি বাকলিয়া থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনায় বাকলিয়া থানায় গত ১৬ মে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শফিউল আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে বাবুল ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


