পিরোজপুরে জেলেপল্লিতে নেই ঈদের আনন্দ, সেমাই-চিনি কেনার টাকাও নেই অনেকের

পিরোজপুরে জেলেপল্লিতে নেই ঈদের আনন্দ, সেমাই-চিনি কেনার টাকাও নেই অনেকের

২০ March ২০২৬ Friday ৪:৩৮:৪৪ PM

Print this E-mail this


পিরোজপুর প্রতিনিধি:

পিরোজপুরে জেলেপল্লিতে নেই ঈদের আনন্দ, সেমাই-চিনি কেনার টাকাও নেই অনেকের

পিরোজপুর জেলেপল্লির কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেই ঈদের আনন্দ। জাটকা সংরক্ষণে নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া জেলেরা ধারদেনা করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন। ঈদ উদ্‌যাপন করতে সেমাই-চিনি কেনার সামর্থ্যও নেই অনেক জেলের। পরিবারের ছোট শিশুদের কিনে দিতে পারেননি ঈদের নতুন জামাকাপড়। 

পিরোজপুর জেলার পাড়ের হাট মৎস্যপল্লিতে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনা হয়নি নতুন কাপড়। এমনকি কেনা হয়নি সেমাই, চিনি, দুধসহ অন্যান্য জিনিস। ১ মার্চ থেকে দুই মাসব্যাপী জাটকা সংরক্ষণ অভিযান শুরু হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার জেলে। ফলে অর্থকষ্টে পড়েছে জেলে পরিবারগুলো। 

জেলে হামেদ সেখ বলেন, ‘সাগরে যেতে পারি না মাছ ধরতে। একটু নদীতে মাছ ধরতাম, তা-ও সরকার দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অন্য কোনো কাজ না থাকায় হাতে কোনো টাকা নেই। বাচ্চাকাচ্চার জামাকাপড় কিনে দেব ঈদে, সেই টাকাও নাই। ঈদের দিন যে একটু সেমাই কিনব বা মাংস কিনব, সেই টাকাও নাই। সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা করত, তাহলে ভালো হতো।’ 

জেলে বেলালের স্ত্রী হাসিনা বেগম বলেন, ‘বাচ্চাকাচ্চা খাবারের জন্য চিল্লাপাল্লা করে, কিন্তু তাদের ঠিকমতো খাওয়াতে পারি না। ঘরে চাল নাই, ঈদের জামাকাপড় আসবে কোথা থেকে। সরকার যে ৪০ কেজি চাল দেয়, তা দিয়ে কয়দিন যায়। ঈদের দিন দরজা দিয়ে ঘরে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমাদের সেমাই কেনার সামর্থ্য নেই, বাচ্চাদের জন্য কিছু কিনতে পারিনি।’ 

পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, পিরোজপুরে জাটকা সংরক্ষণ এবং অবৈধ জাল নির্মূল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলায় ১৮ হাজার ২৫০ জেলেকে ২ হাজার ৯২০ টন চাল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts