প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জনপদ পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। পাহাড়, ঝরনা, লেক, গুহা ও সবুজ অরণ্যে ঘেরা এ জেলায় পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও নানা সীমাবদ্ধতায় প্রত্যাশিত বিকাশ ঘটছে না এ খাতের। সড়ক যোগাযোগের দুরবস্থা, দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা সংকট, পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব এবং প্রচার–প্রচারণার ঘাটতিতে সীমিত কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে খাগড়াছড়ির পর্যটন।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। এবারের দিবসকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ে টেকসই পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে হলে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে উন্নত সড়ক যোগাযোগ, নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থা, পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং নতুন নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
খাগড়াছড়িতে বর্তমানে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে আলুটিলার রহস্যময় সুড়ঙ্গ, রিছাং ঝরনা, মানিকছড়ি ডিসি পার্ক ও মায়াবিনী লেক। এসব স্থানেই মূলত পর্যটকদের আনাগোনা বেশি। এর বাইরে জেলার দুর্গম এলাকায় থাকা অসংখ্য ঝরনা, পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান পর্যটকদের কাছে অনেকটাই অজানা।
খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্কের মনোতোষ ত্রিপুরা বলেন, দুর্গম অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ না থাকায় পর্যটকরা চাইলেও সেখানে যেতে পারেন না। কোথাও কোথাও নিরাপত্তার বিষয়টিও রয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এসব স্থানকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
এফএনএফ রেস্টুরেন্টের মালিক উজ্জ্বল দে বলেন, আলুটিলা ও রিছাং ঝরনার বাইরে খুব একটা দর্শনীয় জায়গা নেই। পর্যটনসংশ্লিষ্টরা যদি নতুন নতুন টুরিস্ট স্পট গড়ে তোলেন, তাহলে আরও ভালো লাগত।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, জেলার যেসব ঝরনা ও প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্রে পরিবার নিয়ে যাওয়া যায় না, সেসব এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। দুর্গম এলাকায় সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটনের উন্নয়নে আরও বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ে পর্যটনের উন্নয়ন করতে হলে শুধু নতুন পর্যটনকেন্দ্র ঘোষণা করলেই হবে না। এসব স্থানে যাতায়াতের জন্য টেকসই সড়ক যোগাযোগ, নিরাপদ পরিবহন, পর্যটকবান্ধব অবকাঠামো, আবাসন ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে তাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করার উদ্যোগ নিতে হবে।
এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে প্রকৃতি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রকৃতিকে বিনষ্ট করে কোনো ধরনের পর্যটন করা হবে না। প্রকৃতিকে অক্ষুণ্ন রেখে স্থানীয় কমিউনিটিকে যুক্ত করে পাহাড়ের পর্যটনের উন্নয়ন করা হবে।



