
চট্টগ্রামের বাজারে ঢুকতে শুরু করেছে মেহেরপুরের নতুন পেঁয়াজ। বাজারে আসার অপেক্ষায় চীন ও পাকিস্তান থেকে আসা ২২৬ টন পেঁয়াজ। তবু অস্থিরতা কমেনি খুচরা বাজারে। যদিও পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের ঝাঁজ কিছুটা কমে এসেছে। খাতুনগঞ্জ, চাক্তাইসহ চট্টগ্রামের অন্যান্য পাইকারি বাজারে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে। খুচরা বাজারে যা এখনো ১৭৫ থেকে ২০০ টাকা।
বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসায় অসাধু ব্যবসায়ীরা লুকিয়ে রাখা পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ছেন। পাইকারি বাজারে সেগুলো কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। খুচরা বাজারে এখনো এসব পেঁয়াজ পৌঁছেনি। তবে বাজারে নতুন পেঁয়াজ এলেই দাম কমে যাবে। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। গত দুই দিনে প্রায় এক হাজার মেট্রিকটন মুড়িকাটা পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জে এসেছে। তবে গত দুই দিনে ভারতীয় পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জে তেমন আসেনি। আড়তে আগের মজুত ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রির জন্য দোকানে তোলা হয়েছে। সেগুলো ১২০-১৩০ টাকায় কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং কয়েকদিন পেঁয়াজ না থাকায় ক্রেতা আসছে না। ফের দাম কমতে শুরু করায় খুচরা বিক্রেতারা ভাবছেন, দাম আরও কমতে পারে। সেজন্য তারাও আসছেন না। আবার দেশি পেঁয়াজও আসছে। এজন্য আমরা দাম কমিয়ে বিক্রি করছি।’
এদিকে পেঁয়াজের মূল্য, মজুদ পর্যবেক্ষণ ও পাইকারি থেকে খুচরা বাজার নিয়ন্ত্রণে এবং বাজার তদারকিতে মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) নগরের বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ছয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। মাঠে ছিল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আগ্রাবাদ চৌমুহনী কর্ণফুলী মার্কেট, ২ নম্বর গেট কর্ণফুলী বাজার, চাক্তাই, পাহাড়তলী, রিয়াজুদ্দিন বাজার ও চান্দগাঁওয়ের কামাল বাজারে এসব অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে চান্দগাঁওয়ের কামাল বাজারের ৭ ব্যবসায়ীকে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জানা গেছে, নগরের আগ্রাবাদের চৌমুহনী এলাকার কর্ণফুলী মার্কেটে এ অভিযান পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম। তিনি সেখানের ৫০টির অধিক দোকানদারকে সর্তক করেন। বাজারে ২ কেজির বেশি পেঁয়াজ একজন ক্রেতাকে বিক্রি না করতে অনুরোধ করেন। খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজের বর্তমান মূল্য অনুযায়ী ১২০ টাকার বেশি বিক্রি না করতে সর্তক করেন। নগরের ২ নং গেইটের কর্ণফুলী বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক। বাজারে ক্রয়-বিক্রি রসিদ অসংরক্ষণ ও উচ্চমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এ সাকিব স্টোরকে ৫ হাজার, ফিরোজ স্টোরকে ৫ হাজার, আবদুল হাকিম স্টোরকে ১০ হাজার, খাজা স্টোরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এছাড়া চাক্তাইয়ে অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম। তিনি এক মামলায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। পাহাড়তলী বাজারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিমাদ্রী খ্রীসা অভিযান পরিচালনা করে ৮ মামলায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। নগরের কাজীর দেউড়ি বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌস আরা। অভিযানে ৩ মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এছাড়া নগরের রিয়াজুদ্দিন বাজারে অভিযান পরিচালনা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী। বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় দুই দোকানিকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।
এছাড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মজুদ করা পেঁয়াজের তথ্য জানাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে, তথ্যের বাইরে কোনো মজুদ করা পণ্য পাওয়া গেলে নিলামে বিক্রি করার হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীরা কোনো গোডাউনে কত পেঁয়াজ মজুদ করছেন তা প্রশাসনকে জানাতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সোমবারের বৈঠকের সিদ্ধান্তনুযায়ী তথ্যের বাইরে মজুদ করা কোন পেঁয়াজ পাওয়া গেলে তা নিলামে বিক্রি করা হবে। এছাড়া পেঁয়াজের মূল্য ও মজুদ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নগরের বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বাজারে জরিমানার পাশাপাশি তাদেরকে সর্তক করা হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক নাসরিন আক্তার বলেন, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একাধিক টিম কাজ করছে। মঙ্গলবার সকালে চান্দগাঁওয়ের কামাল বাজারে অভিযান চালিয়ে সাত ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।