পরিবার থাকে ইউরোপে, ফুটবলার তৈরি করতে লাইজু থেকে গেছেন কুড়িগ্রামে

পরিবার থাকে ইউরোপে, ফুটবলার তৈরি করতে লাইজু থেকে গেছেন কুড়িগ্রামে

তবে এই স্কুলের কাজ শুধু ফুটবল শেখানো নয়। অনেক শিশুর হাতে এখানে তুলে দেওয়া হয় বই-খাতা। কারও পড়াশোনার খরচ দেওয়া হয়, কারও জন্য কেনা হয় জার্সি কিংবা বুট। কখনো কখনো পরিবারের কাছেও পৌঁছে যায় সহায়তা। দারিদ্র্যের কারণে যাদের স্কুলজীবন থেমে গিয়েছিল, তাদের অনেকে আবার ফিরে গেছে শ্রেণিকক্ষে। ফুটবল তাদের কাছে শুধু খেলা নয়, জীবনে ফেরার একটি সেতু। 

জালাল হোসেনের নিজের জীবনও কম ঘটনাবহুল নয়। বাবা মনির হোসেন ছিলেন জেলার পরিচিত ফুটবলার। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার পরিবেশে বেড়ে ওঠা। লাইজু পড়াশোনা করেছেন কুড়িগ্রাম সরকারি বালক বিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ, রংপুরের কারমাইকেল কলেজ এবং পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। 

পরে ঢাকায় দীর্ঘদিন বিভিন্ন পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর ২০১৫ সালে একটি প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার (ফাইন্যান্স) হিসেবে অবসর নেন। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, এবার হয়তো ইউরোপে স্ত্রী, সন্তান, নাতি-নাতনির কাছে ফিরে যাবেন তিনি। কিন্তু লাইজু চলে গেলেন কুড়িগ্রাম। 

কেন? 

প্রশ্নটা শুনে তিনি হেসে বলেন, ‘ইউরোপে আমার পরিবার আছে, নাতি আছে। কিন্তু কুড়িগ্রামে আমার আরও এক হাজার সন্তান আছে। তারা প্রতিদিন মাঠে আসে, স্বপ্ন দেখে। তাদের ছেড়ে আমি কীভাবে একেবারে চলে যাই?’

কুড়িগ্রামের বহু শিশু-কিশোরের কাছে তিনি শুধু কোচ নন; অভিভাবক, পরামর্শদাতা, কখনো কখনো আশ্রয়ও। 

নিজের উপার্জনের বড় একটি অংশ তিনি একসময় ব্যয় করেছেন খেলোয়াড়দের জন্য। এখন বয়স বেড়েছে, সামর্থ্যও আগের মতো নেই। তবু চেষ্টা থেমে নেই। অনুশীলনের পর খেলোয়াড়দের জন্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো—সবই চলছে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে।  

Explore More Districts