পরকীয়ার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গায় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা

পরকীয়ার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গায় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন,  ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
পরকীয়ার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গায় এক যুবক ও এক নারীকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মধ্যযুগীয় এই বর্বর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের অংশ হিসেবে ওই যুবক ও নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়, যুবকের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং পরে দুজনের গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুন্দিপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে পুলিশ তৎপর হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্যাতনের শিকার দুজনকে উদ্ধার করে দর্শনা থানায় নিয়ে যায়। তবে অভিযুক্তদের কাউকেই তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুন্দিপুর গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে স্বপন আলীর সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা আরিফ মিয়ার স্ত্রী আসমা খাতুনের দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার রাতে স্বপন আলী ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে আরিফ মিয়া তাদের ধরে ফেলেন বলে জানা যায়।
এরপর সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তা গণপিটুনির রূপ নেয়। স্বপন আলী ও আসমা খাতুনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়, তাদের গলায় জুতার মালা পরানো হয় এবং পরে আরিফ মিয়া স্বপন আলীর মাথার চুল কেটে দেন।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে দর্শনা থানা পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ভুক্তভোগী দুজনকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হবে আইনের মাধ্যমে। এভাবে প্রকাশ্যে মানুষকে অপমান ও শারীরিক নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের আইনজীবী আহসান আলী বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তা যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।”
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বৃহস্পতিবার সকালে ডেইলি সান-কে জানান, এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় মামলা দায়ের করা যায়নি। উভয় পক্ষ থানায় এলে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Explore More Districts