| ১০ August ২০২৬ Monday ৪:৪৬:২১ PM | |
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের নেছারাবাদের মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১১ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও এমন ফলাফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। গত বছরও বিদ্যালয়টির ফলাফল ছিল প্রায় একই রকম। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আটজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন মাত্র একজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কার্যকর কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত ক্লাসে পাঁচ-ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থী দেখা যায় না। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন ব্যবস্থাপনা চললেও শিক্ষার মানের দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিদ্যালয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সেখানে ১১ জন শিক্ষক, একজন ক্লার্ক ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৩ জন। তাঁদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারকে প্রতি মাসে তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ১১ জন শিক্ষক থাকার পরও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন কেন পাস করছেন? শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পড়াশোনায় আগ্রহী করা এবং পাঠদানের মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার—এ প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, ‘চলতি বছর ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। পাস করেছে একজন। গত বছর আটজন পরীক্ষা দিয়ে একজন পাস করেছিল।’
পাস করা শিক্ষার্থীর নাম ও ফলাফল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন মনে নেই, পরে জানাব।’
১১ জন শিক্ষক থাকার পরও এমন ফলাফলে তিনি দুঃখিত কি না জানতে চাইলে পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, ‘দুঃখ কিসের। শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের দোষ কী?’
স্থানীয়রা জানান, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত আনা ও পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের নয়; বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরও। দীর্ঘদিন ধরে এমন ফলাফলের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদানের মান এবং সরকারি বেতন-ভাতার বিপরীতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও মান ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |
