নেছারাবাদে পাহারায় থাকা পাঁচ কুকুর অচেতন করে গরু চুরি

৯ August ২০২৬ Sunday ২:৩৩:৫৯ PM

Print this E-mail this


নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের নেছারাবাদে পথের পাঁচটি কুকুর নিয়মিত খাবার দিয়ে ভালোবাসায় আপন করে নিয়েছিলেন কৃষক হরিদাস হালদার। সেই কুকুরগুলোই হয়ে উঠেছিল তার গবাদি পশুর রাতের পাহারাদার। তবে গোয়ালঘর পাহারায় থাকা কুকুরগুলোকে অচেতন করে গর্ভবতী গরু নিয়ে গেছে চোরেরা। অভাবের সংসারে একদিকে গরু হারানো কষ্ট অন্যদিকে গরু রক্ষা করতে গিয়ে অসুস্থ কুকুরগুলোকে নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন গরু মালিক হরিদাস।

শনিবার (৮ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে গরু চুরির বিষয়টি টের পান নেছারাবাদ উপজেলার দৈহারী ইউনিয়নের থালিয়া গ্রামের হরিদাস হালদার। এর আগে শুক্রবার রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, হরিদাসের বাড়ির গোয়ালঘরের পাশেই নিয়মিত রাতে অবস্থান করত স্থানীয় পাঁচটি কুকুর। হরিদাস তাদের নিয়মিত খাবার দিতেন। ধীরে ধীরে কুকুরগুলোও যেন বাড়িটিরই সদস্য হয়ে উঠেছিল। রাতে তারা পাহারা দিত গোয়ালঘরের গরু; কিন্তু শুক্রবার রাতেই ঘটে নির্মম ঘটনা। পরিবারের ধারণা, চোরেরা কোনো ধরনের অচেতনকারী দ্রব্য খাইয়ে বা প্রয়োগ করে পাঁচটি কুকুরকে অচেতন করে ফেলে। এরপর গোয়ালঘর থেকে নিয়ে যায় একটি গর্ভবতী গরু।

শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে গোয়ালঘরের পাশে গিয়ে হরিদাস হালদার দেখেন; তার গরুটি নেই। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার প্রিয় পাঁচ পাহারাদার কুকুর মাটিতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।

পরিবারের দাবি, চুরি যাওয়া গরুটি ছিল গর্ভবতী। আর মাত্র এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই গরুটির বাচ্চা প্রসব করার কথা ছিল। তাই গরু হারানোর পাশাপাশি অনাগত বাছুরটির ভবিষ্যৎ নিয়েও কষ্টে পড়েছে পরিবারটি। তারা বলছেন, সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পাঁচটি কুকুরের এখনো স্বাভাবিক জ্ঞান ফেরেনি। তারা কিছু খাচ্ছে না, ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছে না।

হরিদাস হালদার বলেন, কুকুরগুলোকে আমি নিয়মিত খাবার দিতাম। ওরাই রাতে আমার গরু পাহারা দিত। এখন গরুটাও নেই, কুকুরগুলোর অবস্থাও খারাপ। ওরা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

পাটিকেলবাড়ী করফা পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার তদন্তে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ইন্দুরহাট ও চাঁদকাঠির দিকে যাওয়ার সড়কগুলোর তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো আলামিন বলেন, কৃষক হরিদাস হালদার দীর্ঘদিন ধরে গরুটি লালন পালন করে আসছিলেন। বর্তমানে গরুটি গর্ভবতী ছিল। বাড়িতে অবস্থানরত কুকুরদের খাবারের সঙ্গে সম্ভবত ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল। পরেরদিনও তাদেরকে অস্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে দেখা গেছে। গ্রামের সকলে খোঁজাখুজি করেও গরুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নেছারাবাদ উপজেলার পাটিকেলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিশ্বজিৎ বলেন, ঘটনার তদন্তে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ইন্দুরহাট ও চাঁদকাঠির দিকে যাওয়ার সড়কগুলোর তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করি চুরির প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts