নির্মাণাধীন বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট পরিদর্শনে চীনা রাষ্ট্রদূত – দৈনিক আজাদী

নির্মাণাধীন বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট পরিদর্শনে চীনা রাষ্ট্রদূত – দৈনিক আজাদী

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গোয়াছি বাগান এলাকায় নির্মাণাধীন ১৫০ শয্যা বিশিষ্ট বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট চালু হলে নগরীসহ সংলগ্ন অঞ্চলে অগ্নিদগ্ধ ও গুরুতর দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। এ বিশেষায়িত ইউনিটটি চালু হলে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি দ্রুত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

গতকাল চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন চীনের আর্থিক সহায়তায় নির্মাণাধীন চমেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট পরিদর্শনে এলে মেয়র এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন সরকার প্রায় ১৮০ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে। এই অর্থায়নে একটি ছয়তলা আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। হাসপাতালটিতে ১৫০ শয্যার বার্ন ইউনিট, চারটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, পুরুষ ও মহিলা এইচডিইউ, শিশু এইচডিইউসহ সর্বাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সংযোজিত হবে। আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অগ্নিদগ্ধ ও জটিল প্লাস্টিক সার্জারির রোগীদের চিকিৎসার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই ঢাকামুখী হতে হয়। নতুন এই ইউনিট চালু হলে চট্টগ্রাম ছাড়াও কঙবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবানসহ পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষ নিজ অঞ্চলে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা পাবেন। এতে চিকিৎসার সময়, ব্যয় ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

মেয়র বলেন, এই হাসপাতাল কেবল একটি অবকাঠামো নয়, এটি দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের মানুষের জন্য জীবনরক্ষাকারী একটি বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে এই প্রকল্পে প্রায় ৪৭১ জন চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য জনবলের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করবে।

পরিদর্শন শেষে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীনের অর্থায়নে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের অগ্রগতি দেখে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। ইতোমধ্যে অবকাঠামোগত কাজের অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আশা করছি, ২০২৭ সালের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। চট্টগ্রামের মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পে অংশীদার হতে পেরে চীন সরকার আনন্দিত।

চট্টগ্রাম৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চট্টগ্রামসহ আশপাশের জেলার লাখো মানুষের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র। এতদিন এখানে বিশেষায়িত বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট না থাকায় রোগীদের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন ইউনিট চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষ আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা স্বল্প ব্যয়ে নিজ এলাকাতেই গ্রহণ করতে পারবেন।

সভায় চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন নির্মাণাধীন বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সার্বিক পরিকল্পনা, অবকাঠামো, চিকিৎসা সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন। পরিদর্শনকালে চীনের প্রতিনিধি দলের সদস্যবৃন্দ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Explore More Districts