
ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি – বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম শীর্ষ দাবিদার তারেক রহমান জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে তার জন্য সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে দেশজুড়ে যে লুটপাট চালানো হয়েছে, তা মেরামতের দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে তার।
বিএনপি প্রধান বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে তার প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হবে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা। ২০২৪ সালে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে এটি জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তারেক রহমান বলেন, দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করাই এখন মূল লক্ষ্য, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে থাকতে পারেন। তবে সতেরো কোটি মানুষের এই দেশে কাজটি যে অত্যন্ত কঠিন হবে, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেছেন।
গত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং জ্বালানি খাতও বিপর্যস্ত। ভোটের মাঠে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর জোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়লেও তারেক রহমান নিরঙ্কুশ বিজয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। নিজের কার্যালয়ে বসে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ও বড় ম্যান্ডেট পাওয়ার আশা করছি। সরকার গঠনের জন্য তার দলের পর্যাপ্ত আসন পাওয়ার বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দীর্ঘ সতেরো বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন ষাট বছর বয়সী এই নেতা। দেশে ফেরার কিছুদিন পরেই তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
এরপর তিনি দলের পূর্ণ নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। নিজের বিখ্যাত বাবা মায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি তাদের চেয়েও ভালো করার চেষ্টা করবেন। নির্বাচিত হলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশটির অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে তার অন্যতম লক্ষ্য। ভারতের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থই তার কাছে সবার আগে, তবে তিনি প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখতে চান। এছাড়া রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের সংস্কৃতির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, অপরাধের বিচার আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত, তবে দল নিষিদ্ধ করা সমাধানের পথ নয়।
এসএএস/ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


