স্টাফ রিপোর্টার: যশোর শহরের দরাটানা মোড়ের নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে বিক্রি করা ডিম প্যাটিসে নষ্ট ডিম ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ওই প্যাটিস খাওয়ার পর এক শিশুর পেটে ব্যথা শুরু হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। একই পরিবারের দুই সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে যশোরে ডিবিসি নিউজে কর্মরত সাংবাদিক এম এইচ উজ্জ্বল নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে চারটি ডিম প্যাটিস কিনে বাড়িতে নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা প্যাটিস খাওয়া শুরু করলে তার ছোট মেয়ে একটি প্যাটিসে কামড় দেয়। এরপরই প্যাটিস থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হয় বলে জানান উজ্জ্বল।
পরে প্যাটিসটি ভেঙে ভেতরের ডিম পরীক্ষা করে সেটি স্বাভাবিক নয় এবং নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই অংশ খাওয়ার পর শিশুটির পেটে ব্যথা শুরু হয়। পরে তার দুই সন্তানই অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে দাবি করেন উজ্জ্বল।
ঘটনার পর তিনি প্যাটিসগুলো নিয়ে দ্রুত দোকানে গিয়ে অভিযোগ করেন। তার দাবি, দোকানের কর্মচারীরা প্যাটিসটি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে বিষয়টি দোকানে দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তিকে জানিয়ে ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করতে গেলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
উজ্জ্বলের অভিযোগ, ভিডিও ধারণ করায় ওই ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে প্যাটিসগুলো নিয়ে চলে যেতে বলেন এবং বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
উজ্জ্বল আরও জানান, এর আগেও একই দোকান থেকে ডিম প্যাটিস কিনে মান ভালো না পাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তবে সে সময় তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেননি।
এ ঘটনায় প্রস্তুত খাবারের মান, উপকরণের নিরাপত্তা এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য বিক্রি করা খাবারের ক্ষেত্রে নষ্ট বা অনিরাপদ খাদ্য ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খাবারের নমুনা পরীক্ষা, প্রস্তুত ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
তবে এ বিষয়ে নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

