নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা, গুলিতে ১০ জনসহ আহত ২০ – DesheBideshe

নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা, গুলিতে ১০ জনসহ আহত ২০ – DesheBideshe

নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা, গুলিতে ১০ জনসহ আহত ২০ – DesheBideshe

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২৩ ফেব্রুয়ারি – ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় গ্রামবাসীর ওপর হামলা ও গুলি চালিয়েছে বালু ব্যবসায়ীরা। রবিবার সকালে উপজেলার চরলাপাং গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে সিয়াম আহমেদ, ইব্রাহিম খলিল, নূরুল আমীন, রূপ মিয়া, স্বপন মিয়া, শরিফ মিয়া, জুলাস মিয়া, শাকাল মিয়া, সামত মিয়া ও সফর মিয়ার নাম জানা গেছে।

আহতদের প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে গুলিবিদ্ধদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হাবিব রহমান জানান যে দুপুরে ছররা গুলিতে আহত প্রায় ১০ থেকে ১৩ জন রোগী জরুরি বিভাগে এসেছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার চরলাপাং গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল।

এর ফলে নদী তীরবর্তী চরলাপাং গ্রামসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসী বারবার এর প্রতিবাদ জানালেও কোনো প্রতিকার পায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স নামের প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নাসিরাবাদের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহদাদ হোসেন পায়েল এই অবৈধ বালু ব্যবসা পরিচালনা করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে সীমানা অতিক্রম করে দিনরাত বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী সোনাবালুয়া ঘাট, এমপি টিলা, নূরজাহানপুর, ঈদগাহ মাঠ ও কবরস্থানসহ তীরের গ্রামগুলো বিলীন হওয়ার পথে। গ্রামবাসী অভিযোগ করেন যে প্রতিবাদ করলে এই চক্রটি গুলি, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমনকি সন্ত্রাসীরা ফসলি জমির ধান জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। হামলার ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাক ও নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশের উপস্থিতির আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ মান্নান ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত শাহদাদ হোসেন পায়েলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এস এম/ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



Explore More Districts