ন
নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক
·
২ মিনিটের পড়া
·
৭৩ বার পড়া হয়েছে
নড়াইলকণ্ঠ : নড়াইলে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় রবিউল শিকদারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম।
আদালতে আসামির মৃত্যুদণ্ড
আদালত সূত্রে জানা যায়, শিশু জান্নাতুল মাওয়া হত্যা মামলায় আসামি রবিউল শিকদারকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে নিহত শিশুর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর জান্নাতুল মাওয়ার বাবা-মা দ্রুত দণ্ড কার্যকরের দাবি জানান।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলা ঝুলে না থেকে দ্রুত তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার জন্য রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানান তারা।
আদালতে আসামির স্বীকারোক্তির কথা জানালেন পিপি
জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আজিবুর রহমান (আজিজ) জানান, মামলার আসামি রবিউল শিকদার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতেও জান্নাতুল মাওয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
এক মাস আগে নৃশংস ঘটনার সূত্রপাত
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই বিকেলে নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মফিজুর রহমানের পাঁচ বছরের মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয়।
পরবর্তীতে প্রতিবেশী রবিউল শিকদার ওরফে রবির ঘর থেকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মফিজুর রহমান পরদিন, ২১ জুলাই, নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন।
১১ কার্যদিবসেই চার্জশিট
মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। মাত্র ১১ কার্যদিবসের মধ্যে গত ৪ আগস্ট আদালতে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।
এরপর আদালত ৯ আগস্ট মামলার অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ গঠনের পরও বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়।
২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ
মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ গঠনের মাত্র ৮ কার্যদিবসের মধ্যে এসব সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়।
দ্রুত তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল, অভিযোগ গঠন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ করা হয়। এরপর বুধবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।
দ্রুত বিচারকে দৃষ্টান্ত বলছেন স্থানীয়রা
শিশু জান্নাতুল মাওয়া হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হওয়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে আদালতের দেওয়া সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত কার্যকর হলে শিশুদের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তারা মনে করছেন।
পরিবারের দাবি, দ্রুত কার্যকর হোক দণ্ড
রায় ঘোষণার পর জান্নাতুল মাওয়ার বাবা-মা রাষ্ট্রের কাছে তাদের সন্তানের হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, আদালতের রায়ের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ে দণ্ড কার্যকর করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা যাবে।


