চলতি বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রক্ষায় ৪০টি ছোট–বড় খাল পরিষ্কার করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। প্রথম ধাপে গতকাল মঙ্গলবার থেকে চারটি খালের খনন ও পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় প্রতিটি খাল সম্পূর্ণ পরিষ্কারে ১৫ দিন থেকে এক মাস কিংবা তারও বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন মেয়র।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় যে ৪০টি খাল খনন করবে সেগুলো জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পভুক্ত ৩৬ খালের বাইরে। এছাড়া একই কর্মসূচির আওতায় ৬০০ থেকে ৭০০টি নালাও পরিষ্কার করা হবে।
প্রথম দিন খনন কাজ শুরু করা খাল ৪টি হচ্ছে–মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের গোলজার খাল, আগ্রাবাদের নাসির খাল, বন্দর এলাকার বড় খাল ও বাকলিয়ার রসুলবাগ খাল।
খনন কাজের উদ্বোধনকালে মেয়র মেগা প্রকল্পের বাইরে থাকা বহু খাল দখল হয়ে গেছে দাবি করেন। এসময় উদাহারণ দিয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, চান্দগাঁও বামনশাহী খালের পাশে আরো একটি খাল আছে। স্থানীয় লোকজন সেটাকে ‘মরাধরা খাল’ বলে। মরাধরা খাল এই জন্য বলে–খালটির উপর প্লট হয়ে গেছে, বাড়ি উঠে গেছে, খালের উপর সানোয়ারা কর্পোরেশন আবাসিক এলাকা করে ফেলেছে, খালটিকে সংকুচিত করে ফেলেছে। এভাবে গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সমস্ত খাল দখল করে ফেলেছে।
মেয়র বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং স্থায়ী জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে চসিকের বিশেষ খাল খনন অভিযানের অংশ হিসেবে চারটি খালে খনন কাজ শুরু হল। চট্টগ্রাম নগরীকে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। খাল খনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা হবে।
মেয়র বলেন, কিছু খাল কিছুদিন আগেও পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু আবার ভরাট হয়ে গেছে। কারণ মানুষ সচেতন না। তারা সরাসরি খালে ময়লা ফেলছে। শুধু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে নগরী পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। নালা–নর্দমায় ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং পরিচ্ছন্ন নগরী গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ডা. শাহাদাত বলেন, বিগত কয়েক বছরের কাজের ফলে নগরের প্রায় ৭০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমেছে। অবশিষ্ট সমস্যা সমাধানে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন ও জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়া সম্ভব নয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদসহ চসিকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা।



