ধর্মঘট, নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে তুমুল বিতর্ক ও জিন্নাহর সফর

ধর্মঘট, নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে তুমুল বিতর্ক ও 
জিন্নাহর সফর

আন্দোলনের তীব্রতা দেখে এবং পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আসন্ন ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে এবং একটি ‘চুক্তি’ করতে বাধ্য হন।

১৫ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে সংগ্রাম পরিষদের বৈঠকে তুমুল বিতর্ক এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। চুক্তির প্রধান শর্তগুলো ছিল—ভাষা আন্দোলনের সব রাজবন্দীকে মুক্তি দেওয়া, পুলিশের অত্যাচারের তদন্ত করা এবং এপ্রিল মাসের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার জন্য বিশেষ প্রস্তাব উত্থাপন করা। সংগ্রাম পরিষদ চুক্তির যে শর্তগুলো পেশ করে, তার মধ্যে কতগুলো শর্ত নিয়ে তিনি সুস্পষ্ট অসম্মতি জানান।

সংগ্রাম পরিষদকে খাজা নাজিমুদ্দিন বলেন যে বাংলাকে পূর্ব বাংলার সরকারি ভাষা, আদালতের ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার জন্য সুপারিশ করে পূর্ব বাংলা ব্যবস্থাপক সভায় কোনো প্রস্তাব উত্থাপন করতে তিনি কোনোক্রমেই রাজি নন। কারণ, রাষ্ট্রভাষা কী হবে, সেটা প্রাদেশিক পরিষদের দ্বারা নির্ধারিত হবে না। বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের এখতিয়ারভুক্ত এবং সংবিধান সভার মাধ্যমে তারাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক।

Explore More Districts