| ৭ July ২০২৬ Tuesday ২:২১:১৬ PM | |
পিরোজপুর প্রতিনিধি:

দুর্নীতি, অনিয়ম আর দলীয় কোন্দলের কারণে বিগত কয়েক বছরে পিরোজপুর পৌরসভার সড়কগুলোতে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও এখানকার অধিকাংশ সড়ক দেখে মনে হবে গ্রামের কোনো কাদা-মাটির রাস্তা। বড় বড় খানাখন্দে পানি জমে রাস্তাগুলো এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পৌরসভার মোট ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২৬০ কিলোমিটার সড়কই বর্তমানে ভাঙাচোরা। ফলে বর্ষা মৌসুমে চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে লক্ষাধিক পৌরবাসীকে, আর সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয় পিরোজপুর পৌরসভা। তবে সময় অনেক গড়ালেও এখানে নাগরিক সুবিধা একেবারেই বিপর্যস্ত। পৌরসভায় প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে, যার ৯০ শতাংশ রাস্তাই ভাঙা ও বেহাল। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগ আর ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের সঙ্গী পৌর এলাকায় বসবাস করা লক্ষাধিক মানুষের।
বর্তমানে এই ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কাঁচা সড়ক রয়েছে ৩৫-৪০ কিলোমিটার এবং চলাচলের উপযোগী রয়েছে মাত্র ৯০ কিলোমিটার। বাকি ২৬০ কিলোমিটার সড়কই এখন চলাচলের অযোগ্য।
পৌরসভার রায়েরকাঠি এলাকার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফজলুল হক সিকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পৌরসভার ভিতরে যতগুলি রাস্তা রয়েছে অধিকাংশ রাস্তা ভাঙা এবং খানাখন্দে ভরা। আমরা পৌরবাসী বছরের পর বছর দুর্ভোগ নিয়ে চলাফেরা করি। ভাঙা রাস্তায় রিকশা অথবা অটোতে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। কবে নাগাদ রাস্তাগুলি ভালো হবে তা হয়তো আমরা দেখে যেতে পারব না।’
একই ধরনের ভুক্তভোগী পৌরসভার পালপাড়া এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ডিম ব্যবসায়ী সিরাজুল। তিনি তার কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে দোকানে দোকানে পাইকারিভাবে ডিম সরবরাহ করে থাকি। কিন্তু ভ্যানে করে ডিম নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তা ভাঙার কারণে ঝাঁকিতে ঝাঁকিতে প্রতিদিন ৮-১০টা ডিম ভেঙে যায়। যার ফলে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তা খারাপ থাকায় প্রতিনিয়ত ভ্যানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়। ফলে ব্যবসায় লাভের মুখ দেখছি না।’
পৌরসভার এই বেহাল দশার জন্য কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন সাধারণ পৌরবাসী। তবে এই বিষয়ে পিরোজপুর পৌর প্রশাসক মাহামুদুর রহমান মামুন জানান, পর্যাপ্ত ফান্ড বা বরাদ্দ না থাকায় সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।
নাগরিক সুবিধা কিছুটা ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বরাদ্দ না থাকায় সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সুবিধা। নতুন বরাদ্দ পেলে দ্রুত সড়ক মেরামত করে পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।’
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |


