দীর্ঘ বছরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি চাঁদপুর লেকপাড়

দীর্ঘ বছরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি চাঁদপুর লেকপাড়

চাঁদপুর শহরের মধ্যে যে কয়েকটি নিদর্শন রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো চাঁদপুর লেকপাড় এবং অঙ্গীকার পাদদেশ। যেখানে সকাল থেকে রাত অব্দি সাধারণ জনগণের আনাগোনা থাকে। এই লেকপারের সৌন্দর্য এবং অঙ্গীকারের ভাস্কর্যটি দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে ভিড় জমায়।

অথচ লেকপার নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার মাথাব্যথা নেই। দীর্ঘ বছর হলেও এই লেকপাড়ের কোন প্রকার উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে দেখা যায়নি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় লেকপাড়ের প্রধান রাস্তার পাশে ইট সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যা কিনা বর্ষার মৌসুমে উক্ত গর্তের ভিতর পানি ঢুকে প্রধান সড়কটি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে এই লেকের পানি বৃদ্ধি পায়। ফলে রাস্তার পাশে লেকের যে সেফটি বাউন্ডারি রয়েছে উক্ত বাউন্ডারিটি ধুকে পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এখানে প্রতিবছর সাঁতার প্রতিযোগিতা সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য অঙ্গীকারটিতে বিভিন্ন জাতীয় দিবসের প্রথম প্রহরে এখানে ফুল দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে স্মরণ করা হয়। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটিকে নান্দনিক ভাবে গড়ে তোলার কোন পৌর কর্তৃপক্ষের কে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।

লেকেরপার এবং এই অঙ্গীকার পাদদেশে বিকাল থেকে রাত অব্দি সারাক্ষণই লোকে লোকারণ্য থাকে। দূর থেকে দেখলে বুঝার উপায় নেই যে রাস্তার পাশের ইট গুলো ধীরে ধীরে খসে পড়ছে।

এই স্থানে ঘুরতে আসা বেশ কয়েকজন বলেন আমাদের চাঁদপুর শহরে বিকেলবেলা পরিবার নিয়ে ঘুরার মত দর্শনীয় কোন স্থান না থাকার কারণে আমরা শিশু এবং পরিবারদেরকে নিয়ে অঙ্গীকারের কাছে এসেই সময় ব্যয় করি। অথচ এই অঙ্গীকারের পাশেই যাওয়ার জন্য অবস্থায় দেখা যায়। ফলে এর সৌন্দর্য দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আশা করব এই ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে কি লেকপারের সৌন্দর্য আরো কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় সেদিকে তারা নজর দিবেন।

চাঁদপুর শহরের অভিজ্ঞ মহলের ধারণা এই লেকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে হলে এর চারপাশ পরিস্কার করে বসার বেঞ্চ এবং দু চারটি সাম্পান নৌকা ছেড়ে দিলে ছোট ছোট বাচ্চারা আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। এছাড়া লেকের মাঝখানে একটি পানির ফোয়ার করলে এবং রাতের বেলার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে হলে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করলে তাহলে নান্দনিক চাঁদপুরের একটি স্থান হয়ে দাঁড়াবে।

সুজন চৌধুরী/
১৪ জুলাই ২০২৬

Explore More Districts