মাহে রমজান যেন ইবাদতের বসন্তকাল। এখন চলছে মাহে রমজানের দ্বিতীয় পর্ব মাগফেরাতের দশ দিন। এগারোটি রোজা পার করে এসেছি। আজ বারোটি রোজা পার করছি। মাহে রমজানে আমাদেরকে গরিব–দুঃখী মানুষের মাঝে বেশি বেশি দান–সদকাহ করে যেতে হবে। কেননা পরোপকার, দানশীলতা, বদান্যতা বড় মানবিক গুণ। মানুষের উপকার করা এবং মানুষের কল্যাণ করা ইসলামের দৃষ্টিতে পুণ্যময় কাজ। তেমনি রোজার মাসে দরিদ্র মানুষের মাঝে বেশি বেশি দান করাও পুণ্যময় আমল।
মাহে রমজানে প্রিয় নবীর (দ.) দান অনেক গুণ বেড়ে যেত। রোজার মাস এলে তাঁর দানশীলতার মাত্রা বাতাসের গতির চেয়ে বেড়ে যেত বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। দানশীলতা ও একে অন্যের প্রতি সহমর্মিতা মানুষের বড় গুণ। সহমর্মিতা, সৌহার্দ্য ও দানশীলতার চর্চা রোজার মাসে বেশি বেশি করা প্রয়োজন। কেননা এ মাসে একটি পুণ্যের প্রতিদান মেলে ৭০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত। আপনার চারপাশে অনেক অভাবগ্রস্ত মানুষ আছেন, যারা এই রোজার মাসেও আর্থিক অক্ষমতা ও অসচ্ছলতার দরুণ ভালোভাবে হাসিখুশিতে দিন যাপন করতে পারেন না। অনুরূপভাবে আপনার আত্মীয়স্বজনের মধ্যেও হয়তো অনেক দরিদ্র ব্যক্তি আছেন, যারা চক্ষুলজ্জায় কারো কাছে হাত পাতেন না। এমন গরিব আত্মীয়স্বজন, পড়শি খুঁজে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
কোরআন মজিদে আল্লাহ পাকের নির্দেশনা ‘ফা’তি যাল কুরবা হাক্কাহু’, অর্থাৎ ‘তোমরা নিকটাত্মীয়ের হক আদায় করো।’ (সুরা রুম, ৩৮ নং আয়াত)। ইসলামের মধ্যে উত্তম কাজ কোনটি–এর উত্তরে প্রিয় নবী (দ.) বলেন, মানুষকে খাওয়ানো এবং পরস্পর সালাম বিনিময় করা। এভাবে কোরআন–হাদিস শরিফের বহু স্থানে গরিব আত্মীয়স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীসহ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, প্রিয় নবীর (দ.) কাছে সকালে যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ ধন সম্পদ থাকত, দিন শেষে মাগরিবের আগেই তা তিনি মানুষের মাঝে বণ্টন করে দিতেন। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘দানশীলতা জান্নাতের একটি বৃক্ষ, যা তাকে জান্নাতে পৌঁছে দেবে’ (মিশকাতুল মাসাবিহ)।
