দখল-দূষণে দুমকির পীরতলা খাল এখন ময়লার ভাগাড়

দখল-দূষণে দুমকির পীরতলা খাল এখন ময়লার ভাগাড়

২২ September ২০২৫ Monday ৬:১৮:২৭ PM

Print this E-mail this


দুমকি ((পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

দখল-দূষণে দুমকির পীরতলা খাল এখন ময়লার ভাগাড়

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার প্রাণকেন্দ্র থেকে বয়ে যাওয়া পীরতলা খাল। গত এক দশকে প্রভাবশালীরা এর দুই পার দখল করে নির্মাণ করেছেন নানা স্থাপনা। পানি প্রবাহ না থাকায় খালটি এখন ব্যবহার হচ্ছে ময়লার ভাগাড় হিসেবে। দুর্গন্ধে ঘটছে পরিবেশের বিপর্যয়।

পানি নেই, আছে ময়লার স্তূপ। যা খালের প্রাণকে পিষে মারছে। দুমকি উপজেলার পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব গেট সংলগ্ন  পীরতলা বাজার ঘেষে শ্রীরামপুর ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি দক্ষিণে লোহালিয়া নদী ও উত্তরে পায়রা নদীতে মিলেছে। পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল দিয়ে একসময় নৌ-যান চলাচল করতো। বাজারের ব্যবসায়ীরা নৌকায় মালামাল আনা নেয়া করতেন। দুই পাড়ের অন্তত ৫০০ হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ দেয়া হত এবং বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন হতো এই খাল দিয়েই।

মিঠা পানি সংরক্ষণের জন্য ৮০র দশকে খালটির উভয় প্রান্তে জলকপাট নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বছর দশেক আগে জলকপাটগুলো অকেজো হয়ে পড়লে স্থানীয়রা খালের মুখে বাঁধ দিয়ে দেয়। স্বাভাবিক পানির প্রবাহ বন্ধ হওয়া, দুই তীর দখল করে প্রভাবশালীদের কাঁচা-পাকা স্থাপনা নির্মাণ এবং এলাকার বর্জ্য অপসারণের ফলে খালটি অনেক জায়গায় ভরাট হয়ে যায়। এতে করে আবর্জনার স্তুপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

মশামাছির উপদ্রবসহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বিদ্যালয়ে পাঠগ্রহণ করছে কোমলমতি শিশুরা। এতে হুমকিতে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। অতিসত্ত্বর ময়লা অপসারনসহ খালটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, এরইমধ্যে খালটির দুই তীরে থাকা অবৈধ স্থাপনার তালিকা করেছে উপজেলা প্রশাসন। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা ও ময়লা অপসারনের আশ্বাসের পাশাপাশি খালটি পুনঃখননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, আমরা খুব শীঘ্রই নতুন একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে খালটি খনন করা সহ স্বাভাবিকভাবে নদীর পানি যাতে চলাচল করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

গত এক দশকে প্রভাবশালীরা এর দুই পার দখল করে নির্মাণ করেছেন নানা স্থাপনা। খালটি পরিস্কার করে পানির স্বাভাবিক করা হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি ওই এলাকার কৃষকদের চাষাবাদে সুবিধা হবে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts