সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ছেলে ও মেয়েসহ এক গৃহবধূ টানা ৯ দিন ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের পাশাপাশি নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি।
নিখোঁজদের উদ্ধারে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন গৃহবধূর স্বামী আজাদ মিয়া। নিখোঁজরা হলেন— দক্ষিণ সুরমার দক্ষিণ ভার্তখলা এলাকার বাসিন্দা জুলি বেগম (৩০), তার মেয়ে ফাবিহাতুন নেছা ফাইজা (১৬) এবং তিন বছর বয়সী ছেলে আজান আহমদ।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন রাতে স্বামীর অনুমতি ছাড়াই জুলি বেগম ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। বাসার সিসিটিভি ফুটেজে তাদের বেরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে। এরপর সম্ভাব্য আত্মীয়স্বজনের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্বামী আজাদ মিয়া জানান, স্ত্রীর সঙ্গে তার কোনো ধরনের পারিবারিক কলহ, ঝগড়া বা মনোমালিন্য ছিল না। তাই হঠাৎ করে সন্তানদের নিয়ে তার এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি দিশেহারা। তিনি দ্রুত তাদের সন্ধান পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
জানা গেছে, জুলি বেগমের বাবার বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় হলেও বর্তমানে তার পরিবার সিলেট নগরীর উপশহর এলাকায় বসবাস করছে। নিখোঁজের পর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারাও কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, “জিডি পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। প্রযুক্তির সহায়তাসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। খুব শিগগিরই তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মামুনুর রশীদ জানান, ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। পুলিশ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, “আজও নিখোঁজ জুলি বেগমের বাবার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারাও মেয়ে ও নাতি-নাতনির খোঁজে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই পরিবারের মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।”
এদিকে দীর্ঘ নয় দিনেও মা ও দুই সন্তানের কোনো খোঁজ না মেলায় এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত তাদের নিরাপদে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
