এই বাস্তবতায় তফসিল ঘোষণার আগেই কয়েকটি বিষয় নিষ্পত্তি হওয়া দরকার; আর তার সিংহভাগ দায়িত্ব সরকারের। প্রথম কাজ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি; অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান লোকদেখানো নয়, আন্তরিকভাবে চালাতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বড় দলগুলোর সঙ্গে বসে একটি সুস্থ, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের ন্যূনতম সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।
স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষত ইউএনওদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে নিজ নিজ এলাকায় নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করার দায় বুঝিয়ে দিতে হবে; আর অনলাইন হেনস্তা ও অপপ্রচার শনাক্ত, অপসারণ ও শাস্তির জন্য একটি পর্যবেক্ষণ সেল গঠন করা যেতে পারে।
শেষবিচারে স্থানীয় নির্বাচন হবে একটি পরীক্ষা, নতুন বাংলাদেশ কি জুলাইয়ের প্রতিশ্রুত সহনশীল ও বহুত্ববাদী রাজনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারবে, নাকি ক্ষমতাসীনদের পুরোনো ‘সব খেয়ে ফেলার’ সংস্কৃতিকেই তৃণমূলে ছড়িয়ে দেবে? ভোট যদি শান্তিপূর্ণ, প্রতিযোগিতামূলক ও বিশ্বাসযোগ্য হয়, তবে তা কেবল স্থানীয় সরকারকে নয়, কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রের বৈধতাকেও শক্ত ভিত্তি দেবে। সেই সুযোগ হাতছাড়া হলে ক্ষতি স্থানীয় গণ্ডিতে সীমিত থাকবে না।
● কাজী মারুফুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক
* মতামত লেখকের নিজস্ব
