আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজা শহরের তুফাহ এলাকায় অবস্থিত তিনটি স্কুলে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে কমপক্ষে ৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। স্কুলগুলো বাস্তুচ্যুতদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
গাজার স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে আলজাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দার আল-আরকাম স্কুলের আশ্রয়কেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১৮ শিশুসহ ২৯ জন নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।
সিভিল ডিফেন্সের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্কুলটিতে কমপক্ষে চারটি মিসাইল (ক্ষেপণাস্ত্র) হামলা হয়েছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস সূত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছে, গাজা শহরের একই এলাকার ফাহাদ স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছে। সেখানেও আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে।
ইসরায়েলি বাহিনী তুফাহের শাবান আলরাইয়েস স্কুলেও হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও হতাহতের কোনো পরিসংখ্যান তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বেসামরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তারা গাজা শহরের একটি কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। যা হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক এবং সৈন্যদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করছিল। এটি স্পষ্ট নয় যে, ইসরায়েলি বাহিনীর বিবৃতিটি ওই তিনটি স্কুলের আক্রমণ সম্পর্কে ছিল কি না।
ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিতভাবে গাজা উপত্যকায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা করে আসছে। অথচ সেখানে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো বাস করে। যাদের পালানোর কোনো জায়গা নেই। তারা অবরুদ্ধ গাজায় আটকা পড়ে আছে। শহরজুড়ে ভারী বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে।
গাজা সিটি থেকে রিপোর্ট করা আলজাজিরার হানি মাহমুদ বলেছেন, দার আল-আরকাম স্কুলে বোমা হামলার স্থানের ফুটেজটি ভয়াবহ। কিছু ফুটেজ দেখানোর মতো ছিল না। অনেকেই ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং অন্যরা অ্যাম্বুলেন্স বা বেসামরিক যানবাহনে আল-আহলি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় আহত হয়ে মারা যান।
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের তালিকায় উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার নাম কেন নেই
গাজার জরুরি উদ্ধারকর্মীদের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে ফিলিস্তিনিদের হত্যা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ, সাম্প্রতিক হামলা প্রমাণ করে গাজায় নিরাপদ স্থান বলতে কিছু নেই।