| ৯ September ২০২৬ Wednesday ৯:৪০:৩০ PM | |
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার তালতলীর বগীরদোন খালের ওপর নির্মিত লোহার সেতুটি আকস্মিক ভেঙে খালে পড়েছে। এতে তালুকদারপাড়া ও বড়াইতলী এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
এদিকে সেতু ভেঙে পড়ায় তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তালুকদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়েছে মহাবিপাকে। তারা এখন নিরুপায় হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ডিঙ্গি নৌকায় পারাপার হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ও শিক্ষার্থীরা নতুন করে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
তালতলী উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে তৎকালীন আমতলী উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদারপাড়া এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়াইতলী গ্রামের সংযোগ স্থাপনের জন্য বগীরদোন খালের ওপর ৬০ ফিট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফিট প্রস্থের একটি লোহার সেতু নির্মাণ করে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সংস্কারের অভাবে সেতুটি আকস্মিক ভেঙে খালে পড়ে যায়। সেতুটি ভেঙে খালে পড়ায় মৌরভী, পাওয়াপাড়া, তালুকদারপাড়া, বড়াইতলীসহ চার গ্রামের হাজারো মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ হয় যায়।
তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতি, জাহিদ, রেহেনা আক্তার রানু বলে, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সংস্কার না করায় গত ২ সেপ্টেম্বর সেতুটি ভেঙে আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা ছোট ডিঙি নৌকায় পার হয়ে বিদ্যালয়ে আশা যাওয়া করছি।
মৌরুভি পাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেনসহ একাধিক অভিভাবক জানান, বাচ্চাদের একা স্কুলে পাঠাতে এখন ভয় লাগে, যেকোনো সময় নৌকা ডুবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত আমরা এখানে একটা সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।
তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুলে আসতে পারছে না। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের ছোট ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হতে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার যেমন কমেছে, তেমনি তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, ভেঙে যাওয়া সেতুটি অপসারণসহ নতুন একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থী এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আপদকালীন একটি কাঠের সেতু নির্মাণের জন্য বলা হয়েছে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |
