| ২ April ২০২৬ Thursday ৪:৪৮:৫৭ PM | |
তালতলী ((বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার তালতলী উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে একটি বিদ্যালয়ের টিনশেড ঘরের চালা উড়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এবং ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয়ের ঘরটি মেরামত করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ‘ঝাড়াখালী আলহাজ নাসির উদ্দিন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি’ ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০০ সালে এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৩৩ বছর পার হলেও বিদ্যালয়টিতে এখনো কোনো পাকা ভবন নির্মিত হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৭ জন শিক্ষক ও প্রায় ১৫৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে নিয়মিত ১০০ থেকে ১২০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মার্চ শবে কদরের রাতে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে বিদ্যালয়ের একমাত্র কাঠের তৈরি টিনশেড ঘরের চালা উড়ে যায় এবং দরজা-জানালা ভেঙে টিনের বেড়া একদিকে হেলে পড়ে। ফলে বিদ্যালয়ের ঘরটি পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। রমজান ও ঈদের ছুটি শেষে বিদ্যালয় খোলার পর বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠেই বেঞ্চ-টেবিল বসিয়ে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।
সরেজমিনে বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, ঝড়ে উড়ে গেছে চাল। এদিকে বেঞ্চ ও টেবিল-চেয়ার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বিদ্যালয়ের মাঠে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। একদিকে তপ্ত রোদ আর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। স্কুল ভবনের বেহাল দশায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কম। তাও থেমে নেই পাঠদান।
শিক্ষার্থী অভিভাবক আব্দুর রহিম বলেন, আধুনিক যুগে এসেও আমার সন্তানকে খোলা আকাশের নিচে পড়তে হচ্ছে এটা খুবই কষ্টকর। সব জায়গার স্কুল ভবন পাকা হলেও আমার এলাকার এই স্কুল ভবনটি এখনো টিনশেড। সরকারের কাছে দাবি জানাই দ্রুতই যেন এখানে একটি পাকা স্কুল ভবন করা হয়।
প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে কারিমা বেগম নামের এক অভিভাবক জাগো নিউজকে বলেন, এখন এমনিতেই গরমের সময়। তার মধ্যে ঝড়ে স্কুল ভবন ধসে যাওয়ায় আমাদের সন্তানদের এই গরমের মধ্যেও খোলা আকাশের নিচে পড়ালেখা করতে। এতে বাসায় এসেই আমার সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এভাবে চললে তো বড় একটা বিপদ হতে পারে। আমরা চাই কর্তৃপক্ষ দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেয়।
স্কুল ঘর না হলে শিশুদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করে মরিয়ম বেগম বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শিশুরা মাঠে বসে লেখাপড়া করলেও বর্ষায় তো সম্ভব হবে না। তখন লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। তাই দ্রুত বিদ্যালয়ের ঘরটি পুনর্নির্মাণ করা দরকার।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু হানিফ বলেন, গত ১৭ মার্চ রাতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের একমাত্র টিনশেড ভবনের চালা উড়ে যায় এবং ঘরটিও হেলে পড়ে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে বিষয়টি জানিয়েছি। এদিকে ঈদের ছুটির পর স্কুল খুলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বাধ্যই খোলা মাঠে পাঠদান করতে হচ্ছে তাই জরুরি ভিত্তিতে মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণ ছাড়া পাঠদান স্বাভাবিক রাখা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়টির ক্ষতি হবার খবর শুনে আমার প্রতিনিধি ওখানে পাঠিয়েছিলাম। আমিও পরিদর্শন করতে যাবো। আপাতত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের ঘরটি টিন দিয়ে মেরামত করা হবে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |


