দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার নিয়োগ নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। বিশেষ করে এবার একজন মুসলিম প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি—এমন ইঙ্গিত মিলছে বিভিন্ন সূত্রে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিহারের সাবেক রাজ্যপাল আরিফ মোহাম্মদ খানের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে।
বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনি শিগগিরই ব্রাসেলসে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর ফলে ঢাকায় তাঁর উত্তরসূরি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পেশাদার কূটনীতিক না হলেও গুরুত্বপূর্ণ দেশে রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার নজির ভারতের রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আরিফ মোহাম্মদ খানের নাম গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি কংগ্রেসসহ একাধিক সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরবর্তীতে বিজেপি-তে যোগ দেন। তরুণ বয়সে মন্ত্রী হওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপনকারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা—বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলা ভাষায় পারদর্শী কোনো কূটনীতিক বা প্রতিনিধিকেও বিবেচনায় রাখা হতে পারে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করেনি ভারত সরকার।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ ব্যাচের ভারতীয় পররাষ্ট্র সার্ভিস কর্মকর্তা প্রণয় ভার্মা ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া হংতং, সা ফ্রান্সিসকো, বেইুজং, কাঠমুন্ডু ও আমেরিকা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির পর ইউরোপে ভারতের কূটনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। ফলে ব্রাসেলসে প্রণয় ভার্মার নিয়োগকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার নিয়োগেও আঞ্চলিক রাজনীতি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ বার্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



