
ওয়াশিংটন, ১৫ আগস্ট – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং টেসলা প্রধান ইলন মাস্কের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে ফের নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের ঘোষণা দিয়ে আবারও বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্পেসএক্স এর মালিক মাস্ক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ট্রাম্প ও মাস্কের এই ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক জোড়া লাগাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত মে মাসে ট্রাম্পের সাথে মাস্কের সম্পর্কের উন্নয়ন শুরু হয়। এয়ারফোর্স ওয়ানে চড়ে বেইজিং ভ্রমণের সময় তাদের মধ্যে দীর্ঘ আলাপচারিতা হয়।
সেই ফ্লাইটে মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কারখানা তৈরির পরিকল্পনা জানান এবং ট্রাম্প মাস্কের ব্যক্তিগত জীবনের খোঁজ নেন। মাস্ক তখন রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারণায় বড় অংকের অনুদান দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মূলত জেডি ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের কয়েক মাসের নিরলস প্রচেষ্টার ফল এটি।
এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় ট্রাম্পের প্রচারণায় প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলেন মাস্ক। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি ও অপচয় কমানোর লক্ষে মাস্কের আগ্রাসী ভূমিকা অনেক ক্যাবিনেট মন্ত্রীর অসন্তুষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষ করে কর ও ব্যয় সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবিত বিল নিয়ে দুইজনের মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দেয়। মাস্ক বিলটিকে একটি জঘন্য কাজ বলে অভিহিত করেন এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মন্তব্য শুরু করেন। পাল্টা জবাবে ট্রাম্পও মাস্কের সরকারি ভর্তুকি বাতিলের হুমকি দিয়েছিলেন।
পর্দার আড়ালে জেডি ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ সুজি ওয়াইলস এই বিরোধ মেটানোর কাজ শুরু করেন। জেডি ভ্যান্স বিশ্বাস করতেন যে স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে প্রশাসনের বাইরে রাখা আত্মঘাতী হবে। নাসার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিশন এবং পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা চুক্তির সাথে স্পেসএক্স ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এই দ্বন্দ্ব চলাকালে মাস্ক আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে সহায়তা বন্ধের হুমকি দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছিল। সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের আরেকটি ধাপ ছিল ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সার্জিও গোরকে ভারত সফরের মাধ্যমে দূরে সরিয়ে দেওয়া। মাস্কের সাথে গোরের বিরোধ সম্পর্কের অবনতির অন্যতম কারণ ছিল।
গত আগস্টে গোরকে ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর নভেম্বর মাসে মাস্ক আবারও হোয়াইট হাউসের এক নৈশভোজে যোগ দেন এবং ট্রাম্পও ইদানিং মাস্কের উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রশংসা করছেন। তবে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন যে তাদের সম্পর্ক আগের মতো ঘনিষ্ঠ না হলেও এটি বর্তমানে একটি পেশাদার ও গঠনমূলক পর্যায়ে রয়েছে।
এস এম/ ১৫ আগস্ট ২০২৬



