টিআর ও কাবিখা কর্মসূচি: টাকা নয়, কেন খাদ্যই দেওয়া দরকার

টিআর ও কাবিখা কর্মসূচি: টাকা নয়, কেন খাদ্যই দেওয়া দরকার

প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে ৪৯৮টি প্রস্তাবের মধ্যে টিআর ও কাবিখা প্রকল্প খাদ্যের পরিবর্তে নগদ অর্থে বাস্তবায়নের একটি প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাবটি যিনি বা যাঁরা করেছেন, তাঁদের ধারণা, এর মাধ্যমে হয়তোবা ব্যবস্থাপনা অধিকতর স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে।

আপাতত এমনটা দৃশ্যমান হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। টিআর চালু হয় সম্ভবত ব্রিটিশ কিংবা পাকিস্তান আমলে। আর কাবিখার সূচনা পাকিস্তান আমলে। প্রথম দিকে এটা বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর ছিল। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এটা পরিচালনা করতে সহায়তা দিত। এখন দুটি কার্যক্রমই সরকার নিজস্ব সম্পদে বাস্তবায়ন করছে। অবশ্য টিআরে খাদ্যসহায়তা নিকট অতীতে উঠেই গেছে। যুগবাহিত রেওয়াজ অনুসারে টিআরের মাধ্যমে কচুরিপানা, জঙ্গল পরিষ্কারসহ ছোটখাটো মেরামতি কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাবিখায় থাকে প্রধানত পল্লিপূর্ত কার্যক্রম যথা গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ, খাল পুনঃখনন ইত্যাদি। কাবিখায় একসময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বড় বড় প্রকল্পও বাস্তবায়িত হতো। এখন সীমিত আকারে কাবিখা চলছে খাদ্যসহায়তার মাধ্যমে। বর্তমান অর্থবছরে এর জন্য ৯০ হাজার মেট্রিক টন চাল ও সমপরিমাণ গম এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের ২০ হাজার টন বরাদ্দ রয়েছে। আলোচনা করা প্রাসঙ্গিক, উভয় কর্মসূচি যে সময়ে চলে, তখন গ্রামের মৌসুমি শ্রমিকদের কাজ থাকে না। ফসলের মৌসুম নয় বিধায় খাদ্যশস্যের দামও থাকে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। এ সময়ে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কিছু খাদ্য সরকারি মজুত থেকে ছাড়া হলে মূল্য স্থিতিশীল রেখে বাজার ক্রেতাবান্ধব হয়।

Explore More Districts