স্টাফ রিপোটার: গাজীপুরের টঙ্গীতে সুদের উপর টাকা দিয়ে ব্লাঙ্ক চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে ভয়ংকর প্রতারণার জাল পেতেছে মোঃ রফিকুল ইসলাম নামের এক সুদের কারবারি। দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের টঙ্গীর মরকুন মধ্যপাড়ায় সুদের উপর টাকা দিয়ে ব্লাঙ্ক চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে সাধারণ মানুষকে সর্বশান্ত করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
নিয়মের বাইরেও সুদের দেড়গুন দুই গুন বেশী সুদ দিয়েও সাধারণ মানুষ মোঃ রফিকুল ইসলামের কাছ হতে স্ট্যাম্প ফেরত পায় না। সে নানা ইস্যু সৃষ্টি করে সাদা স্ট্যাম্পে ইচ্ছামত টাকার অংক লিখে, মনগড়া সব শর্ত জুড়ে ও তার অনুসারীদের সাক্ষী বানিয়ে থানায় বা আদালতে মামলা করে। সাধারণ মানুষের বাড়িঘর জায়গা জমি দখল করে নিয়ে যায় সুদখোর রফিকুল ইসলাম।

এমনই এক প্রতারণার শিকার গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীপূর্ব থানার মরকুন মধ্যপাড়ার মোঃ হানিফ, মোঃ হায়দারুল হক দিপু ও মিছির আলী,আমিন,তাসলিমা ও রিপন গং। মোঃ হানিফ এ প্রতিবেদককে জানান, তার ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে — একই এলাকার বাসিন্দা বিবাদী মোঃ রফিকুল ইসলাম এর থেকে ২১/০৭/২০১৯ ইং তারিখে ভূমি জামানত হিসেবে দিয়ে ৫,৪০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা নিয়েছি ৩৭ মাসের সুধের উপরে যার সুধের পরিমান ১২,০০,০০০/- (বার লক্ষ) টাকা। আমার হিসাব মতে ৯,৩৩,০০০/- (নয় লক্ষ তেত্রিশ হাজার) টাকা পরিশোধ করি। কিন্তু তিনি ৭,০০,০০০/-টাকা স্বীকার করে বাকি ২,৩৩,০০০/- টাকা অস্বীকার করে। মোঃ হানিফ বলেন,আমি একজন সহজ সরল মানুষ ততোটাও শিক্ষিত না। আমার স্বরলতার সুযোগ নিয়ে বর্তমানে তিনি আমার ২,৩৩,০০০/- (দুই লক্ষ তেত্রিশ হাজার) টাকা অস্বীকার করে এবং আমার জমির দলিল দিচ্ছে না। উক্ত জমির দলিল ২১/০৭/২০১৯ ইং তারিখে জমির পাওয়ার হিসেবে সে আমার কাছ থেকে আমাকে না জানিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে জমির পাওয়ার নেয়। কিন্তু আমি তখনও বুঝতাম না যে জমির পাওয়ার কি? এখন দলিল চাইলে বলে তিনি আমার জমি কিনেছে। এখন এই জমি তিনি তার শশুরের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। আমাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য বিভিন্ন রকম ভয় বিধি হুমকি এবং সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি আমার পরিবার পরিজন নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। এলাকার স্থায়ী বাসিন্ধা মোকাদস,ছানু,দোকানাদার হাসেম এ প্রতিবেদককে বলেন,রফিকুল সুদের ব্যবসা মাধ্যমে প্রতারণা অনেক মানুষকে নি:স্ব করে পথে নামিয়েছে,আমরা তার বিচার চাই। এ বিয়য়ে আমরা ( এ প্রতিবেদক) রফিকের সাথে কথা বলতে চাইলে ফোন রিসিভ করেন নি।

এবিষয়ে টঙ্গী পৌর ভূমি ভারপ্রাপ্ত সহকারী কর্মকর্তা তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, কোর্ট আমাকে পিটিশন মামলা নং-৩১৩/২০২৫ এর সরেজমিন তদন্তসহ কাগজপত্র পর্যালোচনা করে রির্পোট প্রেরণ করতে বলা হয়েছে। আমি যথা সময়েই রির্পোট প্রেরণ করব।



