ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল: চাকরি দেওয়ার কথা বলে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল: চাকরি দেওয়ার কথা বলে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

৮ July ২০২৬ Wednesday ৫:২১:০২ PM

Print this E-mail this


ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল: চাকরি দেওয়ার কথা বলে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। রুমা বেগম নামের এক নারীর কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলাম। আর কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৫ জন জনবল নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। জনবল সরবরাহের দায়িত্ব পায় টাঙ্গাইলের মেসার্স এইচ আর কে। সরকারি নথি অনুযায়ী, নিয়োগ কার্যক্রম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়ার কথা। 

অভিযোগকারী রুমা বেগম জানান, দীর্ঘদিন হাসপাতালে আয়ার কাজ করার পর নতুন নিয়োগের খবর পেয়ে এক্স-রে বিভাগের টেকনোলজিস্ট দিলীপ কুমারের সহযোগিতা চান। তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি পরে প্রধান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে যায়। প্রথমে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হলেও পরে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। দুটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গত জুন মাসে ঝালকাঠির মোরশেদ মেডিকেল সেন্টারে তিনি ওই টাকা সিরাজুল ইসলামের হাতে তুলে দেন। টাকা লেনদেনের প্রমাণ ওই প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া যাবে বলেও দাবি করেন তিনি। এ-সংক্রান্ত তাঁর একটি ভিডিও বক্তব্যও আজকের পত্রিকার হাতে রয়েছে। তবে ১ জুলাই নিয়োগপ্রাপ্ত ২৫ জনের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মো. সিরাজুল ইসলাম মোরশেদ মেডিকেল সেন্টারে খণ্ডকালীন জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করছেন। 

দিলীপ কুমার বলেন, ‘আমি কোনো অর্থ লেনদেনে জড়িত নই। মানবিক কারণে রুমা বেগমকে সহায়তা করতাম। চাকরির বিষয়টি সিরাজুল ভাইকে জানিয়েছিলাম মাত্র।’

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাসুম ইফতেখার বলেন, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ সম্পূর্ণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হয়। হাসপাতালের কোনো ব্যক্তি অনিয়মে জড়িত থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, আউটসোর্সিং নিয়োগে সিভিল সার্জন কার্যালয় বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততার সুযোগ নেই। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, চাকরি দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এইচ আর কের স্বত্বাধিকারী হামিদুর রহমান তুহিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ঝালকাঠির সভাপতি সত্যবান সেনগুপ্ত আজকের পত্রিকাকে বলেন, নিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রমাণ মিললে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts