| ১৭ February ২০২৬ Tuesday ৯:৫২:২৫ PM | |
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান চপলকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এ আদেশ দেন।
দুপুর দেড়টার দিকে তাকে ঝালকাঠি সদর থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন না করায় ঝালকাঠি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এর বিচারক এইচ এম কবির হোসেন তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কর্ণফুলী গার্ডেন ও নাবানা টাওয়ার মার্কেটের স্বর্ণ চুরি মামলায় চপলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এছাড়া গত ৫ আগস্টের পর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ঝালকাঠিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। এ বিরোধের জেরে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ঝালকাঠি শহরের তিনঘাটলা এলাকার একটি বাসা থেকে চায়ের দাওয়াতের কথা বলে চপলকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীকে মারধরের অভিযোগে তাকে থানায় আনা হয়। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হলেও তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির অভ্যন্তরে দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কীর্ত্তিপাশা বাজারে এ বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদল নেতা আকাশ বেপারীসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর চপলের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। বাধা দিতে গেলে ছাত্রদল ও যুবদলের আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকেও মারধর করা হয়।
এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জুমার নামাজের পর মসজিদ প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষে মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির কর্মী মো. সবুজ বেপারীকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে চপলের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান-এর আহ্বানে জুমা-পরবর্তী দোয়ার কর্মসূচি থাকলেও কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আয়োজন না থাকায় এ কর্মসূচি ঘিরে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি হয়।
সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজাদ আহমেদ বলেন, থানায় গিয়ে খোঁজ নেওয়ার পরও চপলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশ তাদের কিছু জানায়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরওয়ার্ডিং না পাওয়ায় আদালতে জামিনের আবেদনও করা সম্ভব হয়নি।
ঝালকাঠি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কোর্ট পরিদর্শক পুলক চন্দ্র রায় জানান, তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

