| ৬ August ২০২৬ Thursday ১২:৪৯:০২ PM | |
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠির সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সভায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা ঘিরে বিতর্কের জেরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়াকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এস এম এজাজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিক, প্রচার সম্পাদক আজিজুল হক, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিসুজ্জামান চপল, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক মিয়াসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা চলাকালে কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়া সেখানে এসে বিএনপির নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে তাঁকে মঞ্চে বিএনপির নেতাদের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনার পর বুধবার সকালে স্থানীয় বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভে চেয়ারম্যান আবদুর রহিম মিয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয় এবং তাঁকে ইউনিয়নে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সাংগঠনিক সভাটি মূলত খোলা মাঠে হওয়ার কথা ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজন করা হয়। সভা চলাকালে চেয়ারম্যান হঠাৎ এসে আমাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। আমরা তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করিনি। পরে তিনি সৌজন্য হিসেবে চা-নাশতার আপ্যায়ন করেন। এর বাইরে সেখানে আর কিছু ঘটেনি।’
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে অনুষ্ঠানটি যেহেতু পরিষদ ভবনে হচ্ছিল, সে কারণেই তিনি সেখানে এসেছিলেন।
সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এস এম এজাজ হাসান বলেন, ‘রহিম মিয়া সেখানে আসার পর আমিও বিব্রত হয়েছি। তবে তাঁকে বিএনপিতে নেওয়া হয়নি এবং তিনি বিএনপিতে যোগও দেননি। তাঁকে বিএনপিতে নেওয়ার খবর সঠিক নয়।’
কীর্তিপাশা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান মুরাদ বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর কিছুদিন চেয়ারম্যান আবদুর রহিম মিয়া এলাকায় ছিলেন না। পরে তিনি ফিরে এসে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। যাঁদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় বাধা ও হামলার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে একই মঞ্চে দলীয় কর্মসূচি গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণেই আমরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি।’
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের সামনেই বিএনপির দলীয় কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও সাংগঠনিক সভা পরিষদ ভবনে আয়োজন এবং সেখানে আওয়ামী লীগ নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মেবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার বক্তব্য জানতে চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |
