ঝালকাঠিতে জলাশয় ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের অভিযোগ

ঝালকাঠিতে জলাশয় ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের অভিযোগ

১৮ April ২০২৬ Saturday ৪:২৫:২১ PM

Print this E-mail this


ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠিতে জলাশয় ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের অভিযোগ

ঝালকাঠি পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমি ও একটি জলাশয় ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭ লাখ ৭ হাজার ৮৮৭ টাকা ব্যয়ে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের জন্য দরপত্র অনুমোদন দেয় ঝালকাঠি পৌরসভা। কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদার মাহমুদুল ইসলাম কাজ শুরু করেন।

তবে এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান সম্প্রতি জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বরিশাল-ঝালকাঠি-পিরোজপুর-বাগেরহাট-খুলনা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট জমি প্রয়োজন হবে। সওজ’র অধিগ্রহণকৃত জমি যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুমতি ছাড়া অন্যকোনো সরকারি/বেসরকারি কাজে ব্যবহারের সুযোগ নেই।ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ কাজে “ভূমি ব্যবহার নীতিমালা-২০১৫ অনুযায়ী কোনো পূর্ব অনুমোদনও গ্রহণ করা হয়নি। এমতাবস্থায়, উক্ত স্থানে কোনো স্থাপনা/ ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

এ বিষয়ে হাইওয়ে মাস্টার প্ল্যান-২০৪০ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক সভায়ও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন এ জমিতে ২০২৩ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু একটি মডেল মসজিদ নির্মাণ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমোদন না পাওয়ায় মডেল মসজিদ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। সেই একই স্থানে ঝালকাঠি পৌর কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিতে অনুমিত ছাড়াই ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের জন্য দরপত্র অনুমোদন দিয়েছে।
কৃষ্ণকাঠি মৌজার, ৯৯ নং জে এল , ১৪২৮ নং এস এ দাগের এ জমি সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানার জমি থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ অধিগ্রহণ করেছে। সেই জমির পাশে এখনও ব্যক্তি মালিকানার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা রয়েছে। এছাড়াও জায়গাটি একটি জলাশয়। এটি বালু দিয়ে ভরাট করাও অপরাধ। অনুমোদন ছাড়া নদী, খাল, বিল, পুকুর বা জলাধার ভরাট করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ‘প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০’ এবং ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন ছাড়া জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। আইন লঙ্ঘন করে জলাশয় ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

জমির অংশীদার মালিক কামরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, জমির সঠিক পরিমাপ বা মালিকদের নোটিশ না দিয়েই এ কাজ করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।

অন্যদিকে ঠিকাদার মাহমুদুল ইসলাম জানান, তিনি পৌরসভার অনুমতি পেয়েই কাজ শুরু করেছেন, জমির মালিকানা যাচাইয়ের দায়িত্ব তার নয়।

পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, শহরে একটি ট্রাকস্ট্যান্ড জরুরি হওয়ায় প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।

সব মিলিয়ে, উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে আইন লঙ্ঘন ও পরিবেশ ক্ষতির আশঙ্কা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts