প্রেমে আর মরমিয়া ভাবাবেশে মাখামাখি ছিল পরিবেশ। বগা তালেব মঞ্চে উদার সুরে ‘থাকতে চাই ঠাকুরের কাছে/ ঠাকুর আমায় পুছে না’ গান পরিবেশন করেন। পরের গানে পরিবেশ বদলে দিলেন তিনি ‘মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দী হইয়ারে’ গেয়ে।
হামিদা বানুও শ্রোতাদের ভাসিয়েছেন আধ্যাত্মিকতার ভাবাবেগে অপ্রচলিত দুটি গানে—‘হাসন রাজা হাওয়ার মানুষ’ ও ‘মাবুদ আল্লাহর লাগি হাসন রাজা হইছে বাউলা’ পরিবেশন করে।
এবার গানের পালা অর্ণবের। এতক্ষণ তিনি শিল্পীদের সঙ্গে গিটার বাজিয়েছেন। তিনি শুরুতে শোনালেন ‘বাউলা কে বানাইলো রে’। পরে গেয়েছেন হাসন রাজার সেই অতি জনপ্রিয় গান ‘লোকে বলে বলে রে ঘরবাড়ি ভালা না আমার’।
‘নেশা লাগিল রে’ গেয়ে গানের গতিমুখ প্রেমের স্রোতে ফেরালেন অনিমেষ রায়। তাঁর পরের গানটি ছিল ‘আগুন লাগাইয়া দিল মনে’।
মঞ্চের নেপথ্যের দৃশ্যে বটবৃক্ষের পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে সুরমা নদী। একক কণ্ঠের শিল্পীরা সবাই এলেন মঞ্চে। তাঁদের সঙ্গে যন্ত্রবাদনে ছিলেন সুদীপ্ত বর্ধন, মিঠুন চক্রবর্তী, বুনো, সাইদুল ইসলাম, কৌশিক, শুভেন্দু দাস, জালাল আহমেদ, আবির ও সহযোগী কণ্ঠে আবিরা ও জান্নাতুল ফেরদৌস। তাঁরা যন্ত্রের মনোমুগ্ধকর বাদন আর কণ্ঠের মাধুর্যে যেন নদীর স্রোতের সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন ভাটি অঞ্চলের মনমতানো সুর, ‘ছাড়িলাম হাসনের নাও রে’। সেই সুরের রেশ নিয়েই ঘরে ফিরে গেলেন শ্রোতারা।
