গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সাপ্তাহিক হাটবার হলেও পুরো এলাকা সুনসান। কোনো ক্রেতা-বিক্রেতা নেই, পণ্য নিয়ে আসেননি কেউ। হাটের টিনশেড ও উন্মুক্ত পাকা স্থান ফাঁকা পড়ে আছে। পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ পাশের বেশির ভাগ দোকান বন্ধ। পূর্বদিকে একটি চায়ের দোকান ও একটি মুদিদোকান খোলা, সেখানে কয়েকজন বসে আছেন।
হাটে বর্তমানে একটি ওষুধের দোকান, চায়ের দোকানসহ ছয়-সাতটি স্থায়ী দোকান আছে। এগুলোও নিয়মিত খোলা থাকে না। দোকানিরা সুবিধামতো সময়েই দোকান খোলেন। হাটের উত্তর পাশে আছে একটি মন্দির এবং দক্ষিণ পাশে মোস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শ্রীবাউর গ্রামের মিরাশদার যতীন্দ্র মোহন কর প্রায় ২০০ বছর আগে এই বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে নাম ছিল ‘বাবুর বাজার’। পরে একটি পুকুর খননের সময় মাটির নিচ থেকে একটি মূর্তি পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারের সঙ্গে মিলিয়ে বাজারটির নাম হয় ‘মঙ্গলচণ্ডীর বাজার’।
তখন আশপাশে আর কোনো বাজার ছিল না, উন্নত সড়ক যোগাযোগও গড়ে ওঠেনি। কয়েক মাইল দূরের গ্রাম থেকেও মানুষ এই হাটে এসে তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতেন এবং প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেন। জগৎসী, মাড়কোনা, বাহারমর্দান, গয়ঘর, ভুজবল, আজমেরু, দজবালি, বাউরঘরি, কমলাকলস, ছিকিরাইলসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ আসতেন এখানে।
দুপুরের পর থেকেই শুরু হতো মানুষের আনাগোনা। কেউ আনতেন খেতের ফসল, কেউ লাঙল-জোয়াল, ঝাঁকা-টুকরি কিংবা খালুই। অনেকেই খাবারের পসরা সাজাতেন। কাছের হাইল হাওর থেকে মৎস্যজীবীরা তাজা মাছ নিয়ে আসতেন। শত শত মানুষের ভিড়ে বাজারটি হয়ে উঠত প্রাণবন্ত।

