| ৩ March ২০২৬ Tuesday ১০:৪১:৫০ PM | |

‘বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ভুল! রেজিস্ট্রেশন কার্ড হাতে পেয়ে হতভম্ব হয়ে পড়ে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এইচএসসি ছেলে পরীক্ষার্থীরা। প্রায় ৩৮ হাজার ছাত্রের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে লিঙ্গ পরিচয়ের ঘরে লেখা রয়েছে ‘ফিমেল’!
এই ভুল সংশোধন করতে এখন বিভাগ জুড়ে কলেজ কর্র্তৃপক্ষ শিক্ষা বোর্ডের দরজায় ধরনা দিচ্ছে।
গতকাল সোমবার সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে কথা হয় বেশ কয়েকজন বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীর সঙ্গে। তাদের প্রশ্ন, ‘ছাত্ররা আচমকা ‘ফিমেল’ হয়ে গেল কী করে? এই অবহেলার জবাব কে দেবে?’
মুলাদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন জানান, তার প্রতিষ্ঠানে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী ৮৬৮ জন। এর মধ্যে ৪২৩ জন ছাত্র হলেও সবার কার্ডেই একইভাবে ‘ফিমেল’ উল্লেখ রয়েছে। সংশোধনের আশায় কার্ডগুলো বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।
সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আক্তারুজ্জামান খান জানান, তাদের কলেজের এক হাজার পরীক্ষার্থীর প্রতিটি কার্ডেই একই ত্রুটি ধরা পড়েছে। দ্রুত নতুন কার্ড ছাপানো না হলে পরীক্ষার্থীরা আরও বিপাকে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বরিশাল বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. তাজুল ইসলাম জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ পরীক্ষার্থীর কার্ডে ছেলে হোক বা মেয়ে সবখানেই ‘ফিমেল’ ছাপা হয়েছে। সোমবারই সংশোধনের জন্য বোর্ডে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী ভুলের কথা স্বীকার করে বলেন, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মোট পরীক্ষার্থী ৮১ হাজার ৮৩১ জন; ছাত্র ৩৭ হাজার ৯৪৪ এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৮৮৭ জন। তিনি জানান, সার্ভার জটিলতার কারণে প্রায় ৩০ হাজার কার্ডে এ বিভ্রান্তি ঘটেছে। ঢাকা থেকে ছাপা এ কার্ডগুলো সেখান থেকেই সংশোধন করে পুনরায় পাঠানো হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বরিশাল বিভাগীয় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, ‘এই ভুল শুধু প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মর্যাদার প্রশ্ন। কার্ড দেখে শিক্ষার্থীরা যে মানসিক বিড়ম্বনায় পড়েছে, তার দায় বোর্ড এড়াতে পারে না।’
তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন, পুনরায় কার্ড ছাপানোর যাবতীয় খরচ কোনো কলেজ বহন করবে না। সম্পূর্ণ আর্থিক দায়ভার শিক্ষা বোর্ডকেই নিতে হবে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |


