জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে জট খোলার চেষ্টায় সরকার

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে জট খোলার চেষ্টায় সরকার

সংসদের উচ্চকক্ষ পিআর পদ্ধতিতে গঠিত হবে—জুলাই সনদে এমনটাই বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সংসদ নির্বাচনে দলগুলো যে ভোট পাবে, তার অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন পাবে। জামায়াত ও তাদের সমমনা দলগুলোর চাওয়া এমনই। তবে বিএনপি চায় নিম্নকক্ষে যে দল যত আসন পাবে, সেই আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষেও আসন পাবে।

সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, সরকারের ভেতরের একটা বড় অংশ মনে করছে, বিএনপির চাওয়ামতো উচ্চকক্ষ গঠিত হলে খুব একটা লাভ হবে না। কারণ, এটা অনেকটা সংসদের নারী আসন বণ্টনের মতোই হবে। আর সংসদ নির্বাচনের ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন হলে সংসদের ভারসাম্য রক্ষা হবে। ক্ষমতাসীন দলকে কিছুটা হলেও চাপে রাখা যাবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী যতটা সম্ভব সংসদকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে। সরকারি দলকে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হওয়া থেকেও নিবৃত্ত রাখা যাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন উপদেষ্টা প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি মেনে নিলে জামায়াতসহ অন্যরা একই দিনে গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন মেনে নেবে, এমন একটা ধারণা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে কয়েকজন উপদেষ্টা দলগুলোর সঙ্গে কথা বলছেন। তাঁর বিশ্বাস, ফেব্রুয়ারিতে ভোট আয়োজনের পথে বাধা কিংবা ঝুঁকি তৈরি হয়, এমন অবস্থান কোনো দলই নেবে না।

আগামী বছর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নিজ নিজ দলের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। অন্য দলগুলোও প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এখন জুলাই সনদ অনুসারে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াই বাকি আছে। এ বিষয়ে সরকার আদেশ জারি করলে দলগুলো পুরোপুরি নির্বাচনমুখী হয়ে পড়বে—এমনটা মনে করছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। সরকারও এ বিষয়টি মাথায় নিয়ে এগোচ্ছে।

Explore More Districts