ইসলামে জুমার দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন এবং জুমার নামাজ মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ ইবাদত। পবিত্র এই দিনে মুমিনদের জন্য রয়েছে অসংখ্য ফজিলত, রহমত ও বরকত। কুরআনে জুমার আজান হলে আল্লাহর স্মরণে ছুটে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ ﷺ বিভিন্ন হাদিসে জুমার দিনের গুরুত্ব ও মর্যাদা বর্ণনা করেছেন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি উত্তমভাবে অজু করে জুমার নামাজে আসে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং নীরব থাকে, তার এ জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।“ (সহিহ মুসলিম: ৮৫৭)
তিনি আরও বলেছেন, “যে দিনগুলোর ওপর সূর্য উদিত হয়েছে, তার মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন।“ (সহিহ মুসলিম: ৮৫৪)
আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন, “জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণের জন্য দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন।“ (সহিহ বুখারি: ৯৩৫; সহিহ মুসলিম: ৮৫২)
অন্যদিকে, বিনা ওজরে জুমার নামাজ ত্যাগকারীদের জন্য কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যারা অবহেলা করে জুমা ত্যাগ করে, তারা যেন অবশ্যই বিরত হয়; অন্যথায় আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর এঁকে দেবেন।“ (সহিহ মুসলিম: ৮৬৫)
ইসলামী শিক্ষায় জুমার দিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান, সুগন্ধি ব্যবহার (পুরুষদের জন্য), আগে আগে মসজিদে যাওয়া, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা, বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা এবং আন্তরিকভাবে দোয়া করা।
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ইবাদত এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক মহামূল্যবান সুযোগ। তাই এ দিনের মর্যাদা রক্ষা করে যথাযথভাবে জুমার নামাজ আদায় করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষের কর্তব্য।
শেয়ার করুন
