জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলা নতুন মাত্রা: আতঙ্কে দিন কাটছে ইউক্রেনীয়দের – DesheBideshe

জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলা নতুন মাত্রা: আতঙ্কে দিন কাটছে ইউক্রেনীয়দের – DesheBideshe



জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলা নতুন মাত্রা: আতঙ্কে দিন কাটছে ইউক্রেনীয়দের – DesheBideshe

কিয়েভ, ১১ জুলাই – ইউক্রেনের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার আক্রমণাত্মক অভিযান এক নতুন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। যুদ্ধরেখা থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শহরটিতে এখন নিয়মিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, গণপরিবহন এবং সাধারণ মানুষের আবাসিক এলাকাগুলোতে বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন,

কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিনের জীবন এখন যেন এক অবিরাম আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্না হলোভচেঙ্কো নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ভোররাতের দিকে রাশিয়ার গ্লাইড বোমার তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে তার ঘুম ভাঙে।

এরপর প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে শুরু হয় ড্রোনের নতুন দফার হামলা। যদিও ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকগুলো ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়, তবুও বিস্ফোরণের শব্দে পুরো শহর বারবার কেঁপে ওঠে। তিনি জানান, বিস্ফোরণের ফলে অনেক সময় ইন্টারনেট সংযোগ এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

জাপোরিঝঝিয়ার ভারপ্রাপ্ত মেয়র রেজিনা খারচেঙ্কো এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, রুশ বাহিনী এখন সরাসরি বেসামরিক মানুষ, ব্যক্তিগত যানবাহন এবং শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাপোরিঝঝিয়া সিটি কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো এখন ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

সেখানে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন প্রতিরোধী জাল স্থাপন এবং স্কুল ও হাসপাতালের জানালায় বিশেষ সুরক্ষা ফিল্ম লাগানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া এখন উন্নত মাদারশিপ ড্রোন ব্যবহার করছে।

লন্ডনভিত্তিক গবেষক স্যাম ক্র্যানি ইভানস জানান,

রুশ ড্রোনগুলো এখন মেশ নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে ইলেকট্রনিক জ্যামিং ফাঁকি দিয়ে অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত করতে পারছে। তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র জুন মাসের শেষ সপ্তাহেই ওই অঞ্চলে প্রায় ৮৮৪টি রুশ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

প্রতিকূল এই পরিস্থিতির মধ্যেও স্থানীয় অনেক বাসিন্দা ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে নারাজ। তারা মনে করেন, যতোক্ষণ পর্যন্ত জয় অর্জিত না হচ্ছে, ততোক্ষণ পর্যন্ত তারা এই লড়াই চালিয়ে যাবেন।

এস এম/ ১১ জুলাই ২০২৬



Explore More Districts