বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশে জরুরি চাহিদা পূরণে আরও ৩ দেশ থেকে জ্বালানি কিনছে সরকার। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক তিনটি দরপত্রের মাধ্যমে মোট ১৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ও ১ লাখ মেট্রিক টন অকটেন কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী শনিবার (৪ এপ্রিল) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এর অনুমোদন দেয়া হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ১০ লাখ টন ডিজেল ও ১ লাখ টন অকটেন কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ ওমান থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ছাড়াও মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তান থেকে আরও ৫ লাখ টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আগামী শনিবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদনের জন্য এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। ওই বৈঠকে অনুমোদনের পর প্রস্তাবগুলো সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে।
এদিকে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। প্রতিদিন যে পরিমাণ তেলের প্রয়োজন, সে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে জ্বালানির অবৈধ মজুদ রোধে দেশজুড়ে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ৩ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দেশে বছরে ডিজেলের চাহিদা ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। অকটেন এবং পেট্রোল মাসে দরকার হয় ৭০ হাজার মেট্রিক টন। পেট্রোল এবং অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কোনো সংকট নেই। ডিজেলের ক্ষেত্রেও কোনো সংকট নেই। এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ আছি।