চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীর বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বসতঘরের সামনে থাকা একটি টিনের ঘর ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর (ঢালী বাড়ি) গ্রামের প্রবাসী বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী মোছা. কুলসুমা বেগম (৩৫) গত ১১ আগস্ট দুপুরে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একই এলাকার মৃত আব্দুল কাদের সরকারের ছেলে মো. সিরাজুল ইসলাম (৬০), মো. হারুন (৫০) এবং সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. রোজিনা বেগমসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে তাকে উদ্দেশ করে গালিগালাজ শুরু করেন।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক বসতঘরে প্রবেশ করে কুলসুমা বেগমকে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গেলে তার ছেলে মুন্না ও মেয়ে মুন্নী আক্তারও হামলার শিকার হন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলাকারীরা বসতঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়। পাশাপাশি বসতঘরের সামনে থাকা একটি টিনের ঘর ভেঙে সেটির মালামালও নিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
আহত কুলসুমা বেগমকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার পর ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী কুলসুমা বেগম বলেন, “বাড়িতে হামলা চালিয়ে সবকিছু ভেঙে দিয়েছে, সামনে থাকা টিনের ঘরটিও নিয়ে গেছে। আমরা এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
তবে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম মারধর ও ঘর ভাঙার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেন, চলাচলের পথে দীর্ঘদিন ধরে ঘর তুলে রাখায় বারবার সরানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। তা না মানায় ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাসুদুর রহমান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মারধর ও ভাঙচুরের আলামত পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
১৩ এপ্রিল ২০২৬
