চুনারুঘাট ও মাধবপুরে ৭ সমস্যার সমাধান চান ভোটাররা! – Habiganj News

চুনারুঘাট ও মাধবপুরে ৭ সমস্যার সমাধান চান ভোটাররা! – Habiganj News

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি এলাকার সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ে উঠে এসেছে একাধিক মৌলিক সমস্যা, যেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানই এবারের নির্বাচনে ভোটের প্রধান নির্ধারক হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

স্থানীয়দের মতে, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি এখনও অত্যন্ত জটিল। নানা কাগজপত্র, দালাল নির্ভরতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক উদ্যোক্তা ঋণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একইভাবে প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত ও সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই, যা বেকারত্ব নিরসনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া থানা ও ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে দালাল ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি সেবা পেতে গিয়ে অনেককে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের শিকার হতে হচ্ছে, যা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে চেয়ারম্যানদের সালিশ ব্যবস্থায়ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। লিখিত নীতিমালা ও জবাবদিহিতা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সালিশের সিদ্ধান্ত পক্ষপাতদুষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগও দীর্ঘদিনের। ‘ডেভিল ধরা’ বা রাজনৈতিক দল ধরার নামে নিরপরাধ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো ও মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে হয়রানির ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়েও রয়েছে ক্ষোভ। সুন্নি ও তাফসির মাহফিল, সামাজিক অনুষ্ঠান এমনকি বৈধ সাংস্কৃতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে নীরব কমিশন ও আতঙ্ক বাণিজ্যের অভিযোগ এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ তৈরি করেছে।

এদিকে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কারণে পরিবেশ দূষণ বাড়লেও তাদের কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি বা সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম এলাকায় তেমনভাবে দৃশ্যমান নয়। শিল্পের নেতিবাচক প্রভাব বহন করলেও স্থানীয় জনগণ সেই অনুপাতে কোনো সুবিধা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। চা-বাগানের শ্রমিক, মাধবপুর পৌরসভার বেদে সম্প্রদায় এবং চুনারুঘাটের নৃ-গোষ্ঠীরা এখনও মূলধারার উন্নয়নের বাইরে রয়ে গেছে। তাদের জন্য সহজ ব্যাংক ঋণ, শিক্ষা ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় আর্থিক বৈষম্য দিন দিন প্রকট হচ্ছে।

এলাকাবাসীর এসব দাবির প্রেক্ষিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথাও শোনা যাচ্ছে। উদ্যোক্তা ও প্রবাসগামীদের জন্য দ্রুত ঋণ অনুমোদন, প্রশাসনকে দালালমুক্ত করা, সালিশ ব্যবস্থায় লিখিত নীতিমালা প্রণয়ন, মামলা বাণিজ্য বন্ধে বিশেষ অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কমিশন বাণিজ্য রোধ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প চালুর আশ্বাস দিচ্ছেন তারা।

ভোটারদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো—শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবায়নের সদিচ্ছা, সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা এবং জবাবদিহিতাই এবারের নির্বাচনে মাধবপুর–চুনারুঘাট আসনের ভোটের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। যে প্রার্থী এসব বাস্তব সমস্যা সাহসের সঙ্গে স্বীকার করে সমাধানের পথ দেখাতে পারবেন, জনগণ তাকেই সংসদে পাঠাতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Explore More Districts